আমি আবার স্কুলে যেতে চাই

  

পিএনএস, বরিশাল প্রতিনিধি : আপনারা আমাকে বাঁচান। আমি আবার স্কুলে যেতে চাই। কথা বলতে না পাড়লেও ইশারা-ইঙ্গিতে এবং চিরকুটে লিখে কান্না ভেজা কণ্ঠে উপস্থিত সাংবাদিকদের এই কথা গুলোই জানাচ্ছিলেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ও দুরারোগ্য গুইলিং বেড়ি সিমডম (জিবিএস) ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু এস এম শাহারিয়ার রহমান সাইভী।

স্থানীয় সূত্রে সংবাদ পেয়ে এ প্রতিবেদকসহ বেশ কয়েকজন সংবাদ কর্মী বরিশাল নগরের গোঁড়াচাঁদ দাষ রোডের শ্যাম বাবুর লেনে অবস্থিত সাইভীর বাসায় গেলে দেখা যায় এক করুন দৃশ্য। একটি ছোট রুমে নিথর হয়ে শুয়ে আছে জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত সাইভী। গলায় এবং নাকে লাগানো রয়েছে স্যাকার মেশিনের পাইপ। শীর্ন হাত-পা নাড়াতে পারলেও মুখ থেকে কোন কথা বলতে পারছেনা। পুরো রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ও ঔষধপত্র। পাশেই বসে আছেন অসহায় বাবা আজাদুর রহমান ও মা আয়েশা সিদ্দিকা মনি।

এসময় অসুস্থতার বিবরন জানতে চাইলে বরিশাল বেতারে কর্মরত সামান্য মাইনের চাকুরে বাবা আজাদুর রহমান জানায়, ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি নির্বাচনের ১ দিন পূর্বে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে সাইভী। এসময় সাইভীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসকরা বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও কোন রোগ নির্নয় করতে না পেরে তাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। বাবা-মা ৫ দিন পরে সাইভীকে নিয়ে ঢাকা যান এবং পরামর্শমত তাকে ঢাকা নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভতি করেন। সেখানকার চিকিৎসকরা সাইভীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান যে সাইভী দুরারোগ্য জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রাথমিক অবস্থায় হ্যাঙ্গেরি’র কোডরিয়ন কোম্পানীর তৈরি হুমোগ্লোবিন (৫ গ্রাম) ভ্যাকসিন প্রতিদিন ৪ টি করে ৫ দিনে মোট ২০ টি ভ্যাকসিন সাইভীর শরীরে প্রয়োগ করতে হবে যার প্রতিটি ভ্যাকসিনের মূল্য ৩৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। সাথে থেরাপিসহ আরো খরচ মিলিয়ে প্রতিদিন সাইভীর চিকিৎসায় খরচ হবে ২ লাক্ষ টাকা। চোখে সর্ষেফুল দেখতে থাকেন বাবা-মা। আকুতি মিনতি জানান আত্বীয়-স্বজন পরিচিত শুভাকাঙ্খীদের কাছে। গ্রামের জমি বিক্রি,ধার দেনা করে ভ্যাকসিন গুলো সাইভীর শরীরে প্রয়োগ করালেও এখন সম্পূর্ন সুস্থ হননি সাইভী। ইতিমধ্যে সাইভীর চিকিৎসায় প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়ে গেছেন পরিবার। চিকিৎসকরা সাইভীকে ঢাকার সাভারে অবস্থিত সি আর পিতে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে বর্তমানে সাইভীর শয্যা পাশে বসে চোখের জল ফেলছেন বাবা-মা।

এ বিষয়ে বরিশাল বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস জানান, আমরা সাইভীকে সহযোগীতা করলেও তা ছিলো অপ্রতুল। আমরা ঢাকা সদর দপ্তরে শিশুটির চিকিৎসার সাহায্যার্থে আবেদন করেছি যা প্রক্রিয়াধীন। কান্না জড়িত কণ্ঠে সাইভীর মা বলেন, সমাজের বিক্তবানরা একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেই আমার শিশুটি সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরে যেতে পারবে। যদি কোন ব্যাক্তি শিশুটির চিকিৎসার সাহায্যার্থে এগিয়ে আসতে চান তাহলে সাইভীর বাবা আজাদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৪৪২২৪২৮৫ (বিকাশ) নাম্বারে।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech