খুলছে জাবি

  



পিএনএস ডেস্ক: দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান।

এদিকে দীর্ঘ বন্ধের পরে বিশ্ববিদ্যালয় সচলের সংবাদে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারীরাও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

গত এক মাসে নানা সময়ে হল খোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। গত ৫ নভেম্বর থেকে বন্ধ থাকা জাবিকে সচলের দাবিতে গত ২০ নভেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে আবেদন জানায় ১৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে ২৬ নভেম্বর আরও ৮ জন এবং ২৮ নভেম্বর প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আবেদন জানায়।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ এর পক্ষ থেকে হল খুলে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সচল করার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।

এছাড়া হল খুলে দেয়াসহ অন্যান্য দাবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।

সর্বশেষ, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে হল না খুললে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে ডেকে শিগগিরই হল খোলা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কাছে হল খুলে ক্লাস-পরীক্ষা সচলের দাবি জানায় শাখা ছাত্রলীগ।

এরপর ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হল খুলে দেয়া নিয়ে বুধবার জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

হল খুলে দেয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জামিনুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারব তাই ভালো লাগছে। এতদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ হল ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। তবে ক্যাম্পাস আবার আগের মতো সরব হবে বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাসে ফিরতে পারব জেনে ভালো লাগছে।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার প্রাণ ফিরে আসবে বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। তবে দীর্ঘ বন্ধে আমাদের অনেক সমস্যা হয়েছে। আশা করি এমন ভোগান্তি আর হবে না।’

এদিকে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরতরা হল খোলার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একই সঙ্গে আন্দোলন চলমান রাখার কথাও বলছেন তারা।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে হল খুলতে বাধ্য হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি বিজয়। আমরা আশা করছি, এই বিজয় অব্যাহত থাকবে। ক্লাস-পরীক্ষা বাধাগ্রস্ত হয় এমন কর্মসূচি থেকে আমরা বিরত থাকব।’

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech