স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার’ তৈরি করলো সাবেক ১১ বুয়েটিয়ান

  

পিএনএস ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া চিকিৎসক-নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় বিশেষ এক ‘জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার’ তৈরি করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, রোগীর কাছ থেকে আসার পর এই চেম্বারের ভেতর ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করলে ভাইরাসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

শুক্রবার (৮ মে) বিকালে রাজধানীর কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে একটি জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার সরবরাহ করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে সেটির ব্যবহার শুরু হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার তৈরির কাজটি করছেন বুয়েটের ’৯৭ ব্যাচের ১১ জন প্রকৌশলী, স্থাপত্যবিদ ও পরিকল্পনাবিদ। এই কাজে নেতৃত্বে আছেন বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবিএম তৌফিক হাসান।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস শুরুর পর থেকেই তাঁদের ব্যাচের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে দেখলেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রচুর আক্রান্ত হচ্ছেন। তখন জীবাণুমুক্তকরণ চেম্বার তৈরির পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়। দেখতে কিছুটা লিফট আকৃতির এই চেম্বার কেবল চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী পরা অবস্থায় ব্যবহার করবেন। হাসপাতালে রোগীদের ওয়ার্ডের কাছাকাছি স্থানে এই চেম্বার বসানো থাকবে। রোগী দেখে আসার পর চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা এই চেম্বারে ঢুকে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করবেন। তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ধরনের জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে। এর ফলে রোগীদের কাছ থেকে যে ভাইরাস বহন করে আনার ঝুঁকি ছিল, সেটা অনেকটাই কমে যাবে।

অধ্যাপক এবিএম তৌফিক হাসান জানান, ঢাকায় করোনা রোগের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্যতম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আরেকটি চেম্বার দেওয়া হবে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আরও দুটি চেম্বার তৈরির পরিকল্পনা করছেন এই প্রকৌশলীরা। এ ​চেম্বারের জন্য হাসপাতালের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের লক্ষ্য হলো করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট এই দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন অধিক ঝুঁকিমুক্ত থেকে বেশি সেবা দিতে পারেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করাই তাঁদের মূল্য লক্ষ্য।

এটা তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীরা জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে গত ১৬ এপ্রিল থেকে প্রকৌশলীরা এই চেম্বার তৈরির কাজ শুরু করেন। একেকটি চেম্বারের ওজন প্রায় ৩০০ কেজি। এর পাশাপাশি স্প্রের জন্য আনুষঙ্গিক বিষয় আছে। একটি চেম্বারে একসঙ্গে তিন মাসের স্প্রে ভরার ব্যবস্থা থাকছে। পরে আবার তা ভরার সুযোগ আছে। একেকটি চেম্বার কমপক্ষে দুই বছর ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে। এই চেম্বার ব্যবহারে শরীরের কোনো ক্ষতি হবে না। একেকটি চেম্বার তৈরি করতে প্রায় ছয় লাখ টাকা লাগছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি চেম্বার তৈরির জন্য আর্থিকভাবে সহায়তা করছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। বাকি দুটির বিষয়ে অন্য একটি সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।

কিন্তু এটি জীবাণুমুক্ত করবে তা কীভাবে বোঝা যাবে—এই প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক তৌফিক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোলের (সিডিসির) প্রকাশিত নির্দেশনায় যেসব জীবাণুনাশক কেমিক্যালের কথা বলা হয়েছে, সে অনুযায়ী এখানে হাইড্রোজেন পার–অক্সাইড ৩ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে পাম্প ব্যবহার করে জীবাণুনাশক মিশ্রণে মিস্ট ( কুয়াশার মতো) তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। তাঁরা নতুন কোনো রাসায়নিক (কেমিক্যাল) তৈরি করেননি। তাঁরা চেম্বারটি তৈরি করেছেন এবং পুরো ব্যবস্থা দাঁড় করিয়েছেন।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন