রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ছেড়ে ‘পালিয়েছেন’ হাবিপ্রবি’র ভিসি

  

পিএনএস ডেস্ক: দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর (ভিসি) করোনার অজুহাত দেখিয়ে নিজে নিজেই নিজ সরকারি বাসভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাস ছেড়ে ‘পালিয়ে’ গেছেন। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ভাইস চ্যান্সলর সরকারি বাসভবনের থেকে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে কাউকে না জানিয়ে চলে গেছেন।

হাবিপ্রবি রেজিষ্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসার ডা. ফজলুল হক ভিসি প্রফেসার ড. মু. আবুল কাশেম ‘পালিয়ে’ যাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে হাবিপ্রবি ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদারকে।

জানা গেছে হাবিপ্রবি ভিসি ড. মু. আবুল কাশেম বিশ্বব্যাপী করোনা অজুহাত দেখিয়ে প্রায় ৯ মাস ধরে সরকারি বাস ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। এই ৯ মাসে তিনি বের হননি। বাড়ি থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি ফাইলগুলোর কাজ করতেন তিনি। আর মাঝে মধ্যে অনলাইনে আসতেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাবিপ্রবি’র ক্যাম্পাসে ভিসির বাসভবনে ভিসি ড. মু. আবুল কাশেমের সাথে স্বাক্ষাত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যান। তারা বিভিন্নভাবে তার স্বাক্ষাত পাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ভেতর থেকে ভিসি কোনো সাড়া না দেওয়ায় ছাত্ররা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট, পরিবহনকর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া হঠাৎ করেই বন্ধ হওয়া, শিক্ষক সংকট নিরশন, সর্বপরি কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাকুরির আশ্বাসের বাস্তবায়ন- এ সকল বিষয় নিয়ে ভিসির সাথে সরাসরি কথা বলাতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছি। এরপরও তিনি আমাদের সাথে কোনো কথা পর্যন্ত বলেননি। কারো সাথে কথা বলে না। জাতীয় ও সরকারি দিবসগুলোতে পর্যন্ত তিনি থাকেন না।

সকাল থেকে ভিসির বাসভবনে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও ভিসি বিরোধী স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে এলাকা। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগি চাওয়ায় বিকালে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মাহফুজুল আলম, দিনাজপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাগফিরুল আব্বাসী ও কোতয়ালী থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন ভিসি প্রফেসার ড. আবুল কাশেমের সাথে তার বাস ভবনের দেখা করতে যান। তবে কেউই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেনি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিসির সরকারি বাস ভবনের সামনেই ঠান্ডার মধ্যে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

সবশেষে মঙ্গলবার রাত টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেন ভিসি। তিনি সকল জটিলতা নিরশন করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন। এরপরই অবস্থার কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগ। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর ভোরে ভিসি গোপনে বাসভবন ত্যাগ করেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন