আজ অভিনেতা দিলদারের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী

  

পিএনএস : অভিনেতা দিলদার নাম ও কাজেই যিনি পরিচিত। চলচ্চিত্র জগতে তার মত কৌতুক অভিনেতা এখন অবধি আসেনি। অভিনয় দিয়ে তিনি আজও কোটি দর্শকের প্রাণে রয়ে গেছে। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। আজ শুক্রবার গুণী এই কৌতুক অভিনেতার ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যুর এত বছর পর কেমন আছেন তার পরিবার। কথা হলো তার ছোট মেয়ে জিনিয়া আফরোজের সাথে। জানালের বাবার সাথে তাদের কাটানো বিভিন্ন সময়ের কথা।

দিলদারের স্ত্রীর নাম রোকেয়া বেগম। এই দম্পতির দুই কন্যা সন্তান। বড় মেয়ের নাম মাসুমা আক্তার। পেশায় তিনি দাঁতের ডাক্তার। বিয়ে করেছেন অনেক আগেই। তার ছেলে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়য়ে পড়ছে আর মেয়ে পড়ছে ক্লাস সেভেন-এ। ছোট মেয়ে জিনিয়া আফরোজ। দিলদারের ছোট মেয়ে জিনিয়ার স্বামী মারা গেছেন। জিনিয়া আগে টেলিকমিনিকেশনে চাকরি করতেন। সেখান থেকে চলে আসেন ব্রাক ব্যাংকে। পাঁচবছর চাকরির পর সেটিও ছেড়ে দেন। শারীরিক অসুস্থতা ও অতিরিক্ত কাজের চাপে ওই চাকরিটি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে চাকরির চেষ্টা করছেন তিনি।

সাথে আলাপ হলে জিনিয়া বলেন, ‘বাবাকে সব সময় মিস করি। শুধু আজকের দিনে নয়। যেদিন থেকে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে সেদিন থেকে আমাদের আর ঈদ নেই। আমার এখনো মনে পরে আমার ছেলের বয়স যখন ২ মাস তাকে কোলে নিয়ে একবার ঈদের নামায আদায় করতে গিয়েছিলেন আব্বা।’

জিনিয়া বলেন, পরিবারের সবকিছু আমার মা দেখাশোনা করেন। উনারও বয়স হয়েছে। আমাদের সংসার রয়েছে, তার ফাঁকেও দেখভাল করি যতটুকু পারি। আর আমার তো কোনো ভাই নেই তাই আম্মাকে আমাদের দুই বোনকেই দেখতে হয়।

চাঁদপুরে বাবার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় উল্লেখ করে জিনিয়া বলেন, ‘আমি বাবার জন্য যতটুকু পারি করি। আমার ফুফুও সহায়তা করেন। আজ আসরের নামাজের পর সেখানে দোয়ার আয়োজন রয়েছে।’

বাবার চলে যাওয়ায় তার অভাব শুধু আমরা নই, পুরো দেশের চলচ্চিত্র প্রিয় মানুষরা অনুভব করেন উল্লেখ করে জিনিয়া বলেন,‘আব্বা ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। তার মূল্যায়ণে তাকে দেশের মানুষ মনে রেখেছে এটাই তার সন্তান হিসেবে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ পাওয়া মনে হয়।’

চলচ্চিত্রে কাজ করার সময় দিলদার টাকা জমিয়ে ডেমরার সারুলিয়ায় ১৯৯৪ সালে একটা পাঁচতলা বাড়ি করেছেন। এখন চারতলা পর্যন্ত ভাড়া দেয়া এবং পাঁচ তলায় দিলদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম থাকেন। এছাড়াও তিনি মাঝে মধ্যে বড় মেয়ের কাছে চাঁদপুরে ও ছোট মেয়ের কাছে ঢাকার নিকেতনে থাকেন।

উল্লেখ্য, ঢাকাই চলচ্চিত্র ১৯৭২ সালে ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্র দিয়ে অভিষেক তার। ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শুধু কৌতুক অভিনেতা হয় নায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন দিলদার। ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করা হয় যার নায়ক ছিলেন দিলদার।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech