এরা সফল তারকা কিন্তু প্রেমে...

  

পিএনএস ডেস্ক :তারকারা পর্দায় কতবার প্রেমে মজেন। কী রোম্যান্টিক তখন তারা। সেই সব প্রেমির ছবি দেখে প্রেম করতে শেখে, ভালোবাসতে শেখে কত দর্শক। কিন্তু এমন অনেক তারকা আছেন যারা পর্দার বড় প্রেমিক হলেও বাস্তবে প্রেম করে ব্যর্থ হয়েছেন।

চলুন আজ জানা যাক প্রেমে ব্যর্থ সেসব তারকার গল্প।

রাজ কাপুর-নার্গিস
এটি ছিল একটি সত্যিকারের শোকাবহ প্রেম কহিনী। রাজ কাপুর ছিলেন বলিউডের শক্তিমান তারকা আর নার্গিস দত্ত সুন্দরী ও মেধাবী অভিনেত্রী। ‘আওয়ারা’ ও ‘৪২০’সহ ষোলটি সিনেমায় একত্রে কাজ করেছেন বলিউডের সফল এ জুটি। রাজ কাপুর ছিলেন বিবাহিত। তার পরেও খুব সহজেই জমে ওঠে তাদের প্রেমলীলা। চারিদিকে চাউর হয়ে যায় তাদের এ সম্পর্কের কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রী কৃষ্ণা রাজ কাপুর ও সন্তানকে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি রাজ কাপুরের।

তবে থেমে থাকেনি নার্গিসের জীবনও। রাজ কাপুরের সঙ্গে প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার পর তার জীবনে আসে সুনীল দত্ত। ‘মাদার ইন্ডিয়া’ সিনেমার শুটিং চলার সময় সেটে আগুন লেগে যায়। এ সময় নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে নার্গিসকে উদ্ধার করে এ সিনেমার সহঅভিনেতা সুনিল দত্ত। এ ঘটনার পর নার্গিস ঝুকে পড়েন অনিলের প্রতি। তারা বিয়ে করে সংসারী হন। বিয়ের বহুদিন পর নার্গিস বলেন, ‘আমি আমার সুখের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি। অনিল আমাকে সত্যিই অনেক ভালবাসে। এটি হৃদয়কে নাড়া দেবার মতো সত্যিকারে একটি প্রেমের গল্প।

মধুবালা-দিলিপ কুমার
মধুবালা দিলিপ কুমারের প্রেম বলিউডের একটি সাড়া জাগানো ভালবাসার গল্প। দিলিপের সত্যিকারের নাম মোহাম্মাদ উইসুফ খান। তার সময়ে তিনি ছিলেন বলিউডের সুপার হিরো। অসংখ্য রমনীর স্বপ্ন পুরুষ দিলিপ কুমার জড়িয়ে পড়েন বলিউডের মহিয়সী রমণী এবং তারকা অভিনেত্রী মধুবালার প্রেমে। তাড়াহুড়ো করে এঙ্গেজমেন্টও সেরে ফেলেন তারা। কিন্তু দিলিপের আত্মসন্মানের খড়ায় পড়ে নষ্ট হয়ে যায় তাদের এই সুন্দর সম্পর্ক।

গল্পটি হচ্ছে, বি আর চোপড়ার ‘নয়া দেওর’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন এ জুটি। কিন্তু বেকে বসেন মধুবালার বাপ। তার আপত্তিতে এ সিনেমায় অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানায় মধুবালা। আর মধুকে রাজি করানোর দায়িত্ব পড়ে দিলিপ কুমারের উপর। দিলিপের শত অনুরোধ সত্বেও বাবার অবাধ্য হতে চাননি মধুবালা। আর এই ক্ষোভ পোষন করে বিয়ের ঠিক আগে মধুবালাকে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে তাকে বিয়ে করার শর্ত বেঁধে দেন দিলিপ কুমার। মধুবালা দিলিপকে বলেন, ‘আমার বাবার কাছে তোমাকে মাফ চাইতে হবে, আর তাহলেই কেবল আমি তোমার শর্তে রাজি আছি।’

কিন্তু এবারও বেকে বসেন দিলিপ, কোনোভাবেই তিনি মাফ চাইবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন মধুবালাকে। যার ফলে ভেঙ্গে যায় তাদের এই মধুর সম্পর্ক। পরে অবশ্য বিয়ে করেছেন মধুবালাও। মধুবালা বলেন, ‘দিলিপ যখন সায়েরা বানুকে বিয়ে করে সেটা ছিল আমার জন্যে খুবই কষ্টের সময়। আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবাসি আর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ভালোবেসে যাব।’

রেখা-অমিতাভ
রেখা অমিতাভের প্রেম আজ পর্যন্ত বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের গল্প। অমিতাভ ছিলেন বলিউডের উঠতি তারকা। আর রেখা দক্ষিনের অভিনেত্রী। তিনি তখন বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার পথ খুঁজছিলেন। ইয়াশ চোপড়ার ‘সিলসিলা’ সিনেমা তাদেরকে (জয়া-অমিতাভ আর রেখা) ফেলে দেয় ত্রিমুখি এক প্রেমের সঘর্ষে। আর ‘আনযানি’ সিনেমায় তাদের জুটিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে প্রেমের গুঞ্জন আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে তাদেরকে একসঙ্গে দেখাও যায়। ঠিক এমন সময়ই অমিতাভ বিয়ে করে ফেলেন জয়াকে।

তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন,‘খুন পাসিনা’, ‘গঙ্গা গি সুগন্ধ’, ‘সোহাগ’, ‘মোকাদ্দার কা সিকান্দার’, ‘রাম বলরাম’, ‘মি: নাতুয়াররার’, ও সিলসিলা’র মতো সিনেমায়। একবার পাগলামী করে নিতু সিং ও ঋষি কাপুরের বিয়ের অনুষ্ঠানে লাল সিদুর পরে উপস্থিত হন রেখা । এরপর অমিতাভের স্ত্রী জয়া রেখাকে বাড়িতে ডিনারের আমন্ত্রন জানান এবং সবকিছু ভুলে যেতে পরামর্শ দেন।

মজার ব্যপার হচ্ছে ১৯৮৪ সালে একটি জনপ্রিয় ম্যগাজিনে রেখা তার ভেঙ্গে যাওয়া প্রেমের সম্পর্কে একটি সাক্ষাতকার দেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, অমিতাভ কেন তার সঙ্গে এমন করলেন? রেখা বলেন, ‘সে তার ইমেজ, এবং পরিবারকে রক্ষা করার জন্যে এটা করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি তাকে ভালোবাসি আর আমার ধারনা সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে।’ এসময় রেখা আরো জানায়, অমিতাভ কাউকে কষ্ট দিতে চায়নি। সুতরাং সে তার স্ত্রীকে কেন কষ্ট দিবে।

জিনাত আমান-সঞ্জয় খান
১৯৮০ সালে ‘আবদুল্লাহ’ সিনেমার শুটিং স্পট থেকে শুরু হয় তাদের প্রেমের গল্প। সঞ্জয় ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী জেরিন খান যখন গর্ভবতী তখনই তিনি জড়িয়ে পড়েন জিনাতের প্রেমে। সঞ্জয়ের স্ত্রী জেরিন একটি সাক্ষাতকারে বলেন, ‘এ ঘটনা শোনার পর আমি হতবম্ভ হয়ে পড়ি এবং তাকে সতর্ক করে দিই।’

তাদের এ সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সঞ্জয় ধোকা দেন জিনাতকে। মুম্বাইয়ের তাজমহল হোটেলে সঞ্জয় তার স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে একটি রুমে অবস্থান করছিরেলন। এ সময় জিনাত সেখানে উপস্থিত হলে, সঞ্জয় ও তার স্ত্রী মিলে ভীষনভাবে মারধর করে জিনাতকে। যার ফলে আহতবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে।

অনেকদিন পর টিভি সিরিয়াল ‘সোর্ড অব টার্জানে’র শুটিং করতে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়ে যান সঞ্জয় খান। এতে তার শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। অনেকে এ ঘটনাকে জিনাতের অভিশাপের ফল বলে ধারনা করেন।

সালমান খান-ঐশ্বরিয়া রাই
সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই এর বিখ্যাত প্রেম কাহিনীর সূচনা হয় সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘হাম দিল দে চুকিহে সানাম’ সিনেমার শুটিং স্পট থেকে। ১৯৯৯-২০০১ সাল পর্যন্ত সালমানকে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরীর সঙ্গে। তাদের এই কঠিন প্রেমের পরিনতিও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

সম্পর্কটি ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্রে সালমানের নানা অভিযোগ আর সন্দেহপ্রবন মনোভাবকেই দায়ী করেন ঐশ্বরিয়া। সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর সালমানের প্রচন্ড ক্ষোভের মুখে পতিত হন অ্যাশ। এমনকি শাহরুখের সঙ্গে ‘চলতে চলতে’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সালমানের কারনেই তিনি সিনেসাটি কাজ করেননি। সিনেমাটিতে অভিনয় করেন রানী মুখার্জী। অবশ্য ঐশ্বরিয়ার বাবা-মাও এ সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

২০০২ সালে টাইমস অব ইন্ডিায়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘গত মার্চ মাসে আমাদের ব্রেক আপ হয়েছে। ব্রেক আপের পর সালমান আমাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার সঙ্গে সহঅভিনেতাদের সম্পর্ক আছে বলে দাবী করেছে। তবে আমি অভিষেক থেকে শাহরুখ সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই।’

এর কিছুদিন পর ঐশ্বরিয়াকে দেখা যায় ভিবেক অবেরয়ের সঙ্গে ডেটিং করতে। এতে আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে ভিবেককে খুন করার হুমকি দেয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই অ্যাশ আবার প্রেমে পড়েন অভিষেক বচ্চনের এবং বিয়ে করে নেন তড়িঘড়ি করে। সালমানের জন্য এটি ছিল সত্যিই অনেক কষ্টের।

অক্ষয়-শিল্পা শেঠি
অক্ষয় এবং শিল্পা শেঠি বলিউডের আর একটি ব্যর্থ প্রেমের গল্প। বেশ কয়েকটি সিনেমায় একত্রে কাজ করেছেন তারা। তাদের গল্পের শুরুও শুটিং স্পট থেকে। তবে বলিউডের ‘সিজোনাল লাভার’ খ্যাত অক্ষয় শিল্পা ছাড়াও রাভিনা টেন্ডন, পুজা বাত্র, মমতা কুলকার্নিসহ প্রেম করেছেন বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে। আর এ বিষয়টি বেশি দিন গোপন থাকেনি শিল্পার কাছে। যখন তিনি বুঝতে পারলেন, অক্ষয় তার সঙ্গে চিট করছে তখনই থেমে যায় তাদের এই প্রেমের গল্প।

পরবর্তীতে অক্ষয় বিয়ে করেন টুইঙ্কেল খান্নাকে। আর শিল্পা গাটছাড়া বেঁধেছেন রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে। আর দুজনেই সুখের সংসার করছেন। কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার।

অভিষেক বচ্চন-কারিশমা কাপুর
অভিষেক বচ্চন আর কারিশমা কাপুর। এটি বলিউডের সবচেয়ে রহস্যপূর্ণ একটি ব্যর্থ প্রেমের গল্প। কারিশমা ছিলেন স্টার আর নায়ক হিসেবে অভিষেকের অভিষেকই হয়নি। এমন সময় থেকেই গড়ে ওঠে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। সিনেমাতে অভিষেকের পর পরিচয় হয় কারিশমার ছোট বোন কারিনার সঙ্গে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে। অমিতাভের ৬০তম জন্মদিনের জমজমাট পার্টিতে এঙ্গেজমেন্ট হয় তাদের। কিন্তু কয়েকমাস পরই হঠাৎ তাদের বিয়েটি বন্ধ হয়ে যায়। তাদের ব্রেক আপের কারণ হিসেবে বাতাসে ভাসতে থাকে বেশ কয়েকটি গুঞ্জন। এক. বিয়ের পর সিনেমা ছাড়তে হবে কারিশমাকে। আরেকটি গুঞ্জন হচ্ছে, সাহারা গ্রুপের চেয়ারম্যান শুব্রত রায়ের সঙ্গে কারিশমার ঘনিষ্ঠতা। তবে আদৌ এমন কিছু ছিল কিনা এ ব্যপারে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

যাইহোক, কিছুদিন পরেই কারিশমা বিখ্যাত ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন। আর অভিষেক ঐশ্বরিয়াকে। তবে, ঘটনাক্রমে অভিষেকের বোন শুজাতার বিয়ে হয়েছে কারিশমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে। ।

বিপাশা বসু-জন আব্রাহাম
প্রায় এক দশক ধরে চুটিয়ে প্রেম করার পর হঠাৎ করেই যেন নিজেদের সম্পর্কের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন এই জুটি।তখন বিপাশা বলেছিল, ‘জন তাকে ধোঁকা দিয়েছে’ কিন্তু পরবর্তীতে জন অবশ্য বলেছিল, ‘বিপাশার হলিউড অভিনেতা জোস হারটনেটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।’

মাহিমা চৌধুরী-লিন্ডার পায়েস
মাহিমা চৌধুরী একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ‘টেনিস তারকা লিন্ডার পায়েস তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। তার কারণ ছিল একজন বিবাহিত নারী।আর নারীটি যে কে সেটা জানার জন্য আপনাকে একটুও কষ্ট করার দরকার নেই। কারণ সেই বিবাহিত নারী আর কেউ নন তিনি মডেল রহেয়া পিল্লাই। তবে মাহিমা আরো বলেছিলেন, তিনি বিষয়টি জানার পর তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে।

রনবীর কাপুর-দীপিকা পাড়ুকোন
দীপিকা পাড়ুকোন বলেছেন, রনবীর আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমি ব্যাপারটি ধরতে পেরেছি।’ শুধু তাই নয়, কফি উইথ করণ অনুষ্ঠানে তিনি রনবীরকে কনডম ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন।তিনি সেই অনুষ্ঠানে খোলাখুলিভাবেই বলেছেন, ‘যে রনবীর তার কাছে বিশ্বস্ত ছিল না।’

জুক্তা মুখী-প্রিন্স টুলি
সাবেক বিশ্বসুন্দরী এবং ব্যাবসায়ী প্রিন্স টুলি ২০০৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ধারণা করা হয়, এ জুটি স্বপ্নের জুটি।কিন্তু বিয়ের পাঁচ বছর যেতে না যেতেই জুক্তা তার স্বামীর বিরুদ্ধে সাংসারিক সহিংসতা ও অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক এই দুই বিষয়ে মামলা দায়ের করেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech