কঙ্গনার জন্য হলিউডের মেকআপম্যান

  

পিএনএস ডেস্ক : জয়ললিতা। জয়ললিতা জয়রাম। তাঁর জীবন যেকোনো সিনেমার গল্পকে হার মানায়। তাই তো বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌতের শরীরে বড় পর্দায় আবার তিনি জীবিত হবেন। চলচ্চিত্রের নাম ‘তালাইভি’। অর্থ ‘বিপ্লবী নেত্রী’। জয়ললিতাকেই এই নামে চিনত সবাই।

এই ছবিতে কঙ্গনাকে চারটি লুকে দেখা যাবে। তাই এই ছবির জন্য প্রসথেটিক্স মেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে শিল্পী আনা হয়েছে হলিউড থেকে। নাম জেসন কলিন্স। তিনি ‘ক্যাপ্টেন মার্ভেল’, ‘ব্লেড রানার’ বা ‘হাঙ্গার গেমস’-এর মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মেকআপে প্রসথেটিক্সের কাজ করেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘তালাইভি’ ছবির প্রযোজক বিষ্ণু ইন্দু সংবাদ সম্মেলন করে এই খবর দেন। শুরুতে গুজব ছড়িয়েছিল, ছবির প্রযোজক নাকি বিপদে আছেন। কারণ ছবির বাজেট আনুমানিক ৫৫ কোটি রুপি। এই পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা নাকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। কিন্তু প্রযোজক এসব খবরকে মিথ্যে রটনা বলে উড়িয়ে দেন।

টুইটারেও শব্দে শব্দে ঝরে পড়েছে তাঁর ক্ষোভ, ‘পুরোদমে প্রি প্রোডাকশনের কাজ চলছে। দিওয়ালির পর শুটিং শুরু হবে। এর মধ্যে এসব আজেবাজে মিথ্যা কথা যে কীভাবে ছড়ায়! কোনো তথ্য যাচাই না করে এভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়।’

‘তালাইভি’ ছবিটি তামিল, তেলেগু ও হিন্দি—তিন ভাষায় মুক্তি দেওয়া হবে। শুরুতে হিন্দি ভাষায় এই ছবির নাম রাখার কথা ছিল ‘জয়া’। পরে কঙ্গনার অনুরোধে সব ভাষার জন্য ‘তালাইভি’ নামটা চূড়ান্ত করা হয়। এই ছবিতে তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা এম জি রমচন্দ্রনের চরিত্রে দেখা যাবে অরবিন্দ স্বামীকে।

ভারতীয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। ঘনিষ্ঠজনের কাছে তিনি ‘আম্মা’। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর যাঁর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে ৭৭ জন আত্মহত্যা করেন। অভিনয়জগতে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর রাজনীতিবিদ হিসেবেও নিজের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন। এক জীবনে উত্থান ও পতন—সব রূপ দেখেছেন তিনি।

১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত জয়ললিতার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়। এই সময় তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন। ১৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ১২০টিই ছিল ব্লকবাস্টার।

গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে জয়ললিতা এম জি রমচন্দ্রনের সঙ্গে অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। দুজনের মধ্যে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। রমচন্দ্রনই তাঁকে রাজনীতিতে আগ্রহী করেন।

১৯৮৭ সালে রমচন্দ্রনের মৃত্যুর পর এআইএডিএমকে দলে বিভাজন তৈরি হয়। একদল ছিল রমচন্দ্রনের স্ত্রী জানকির দিকে আর আরেক দল ছিল জয়ললিতার সঙ্গে। ১৯৮৯ সালে জয়ললিতাই জয়ী হয়ে বিধানসভার সদস্য হন। তিনি বিধানসভার প্রথম নারী হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হন। বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে সরকারি দলের বিধায়কদের হাতে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। এই ঘটনায় তিনি সাধারণ জনগণের সহানুভূতি পান এবং ১৯৯১ সালে প্রথম ও সর্বকনিষ্ঠ নারী মুখ্যমন্ত্রী হন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ললিতার দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে জিতে আবার ক্ষমতায় আসেন জয়ললিতা। সেই সময় ফৌজদারি মামলা চলছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেননি। পরে মামলা থেকে রেহাই পান। ২০১১ সালে জয়ললিতা তৃতীয় মেয়াদে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০১৪ সালের একটি রায়ে তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড হয়। এর ফলে ভারতের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালনের অযোগ্য ঘোষিত হন। একই সঙ্গে বিধানসভার সদস্যপদ হারান।

২০১৪ সালে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি মেলে। উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেতন নিতেন মাত্র এক রুপি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech