অন্তঃসত্ত্বাকে ‘তড়ানোর ঘটনা’ তদন্তে কমিটি

  

পিএনএস: বগুড়ার শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে তাড়িয়ে দেওয়া, পরে মাঠে তার সন্তান প্রসব ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার ডিপুটি সিভিল সার্জন এটিএম নূরুজ্জামানকে প্রধান করে গঠিত কমিটি সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে বলে বগুড়ার সিভিল সার্জন অর্ধেন্দু রায় জানিয়েছেন।

কমিটির দুই সদস্য হলেন দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুল ওয়াদুদ ও সারিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাসিনা আক্তার।

এ ঘটনায় শেরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানীকে তলব এবং জেলা প্রশাসককে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হাই কোর্টের আদেশের পর এই কমিটি গঠন করা হলো।

এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুলও জারি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘তাড়িয়ে দিল নার্স, মাঠে প্রসব : নবজাতকের মৃত্যু’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী শামীম সরদার। এরপর আদালতের আদেশ আসে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রসব বেদনায় ছটফট করা মাজেদা বেগমকে রাত ১১টার দিকে নেওয়া হয়েছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভর্তিও করা হয়েছিল।

এক ঘণ্টা পর প্রসব কক্ষে নেওয়ার কথা থাকলেও সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানী মাজেদাকে পাশের মডার্ন ক্লিনিকে নিয়ে ডা. রাফসান জাহান রিম্মীর কাছে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

মাজেদাকে কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে তিনি ঘুমাতে চলে যান।

কিন্তু নগদ টাকা না থাকায় পরে নার্সকে ডেকে তোলেন মাজেদার স্বজনরা। তারা মাজেদাকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসার অনুরোধ জানান।

রাত পৌনে ১টায় ইনডোর বিভাগের আয়া পারভীন বিবি যন্ত্রণাকাতর মাজেদাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। তখন বাইরে নিতে গেলে গেটের কাছে চিৎকার দিয়ে পড়ে যান মাজেদা। অন্ধকার খোলা মাঠে নারকেল গাছের তলায় বালু মাটির ওপর সন্তান প্রসব করেন তিনি।

মাজেদার আর্তচিৎকার শুনে হাসপাতাল রোডের নৈশপ্রহরী ফজলু মিয়া ও পথচারী রিন্টু এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন নার্স সুষমা ও হাসপাতালের নৈশপ্রহরী কাজলকে।

পরে ডাক্তার পিয়াল ও নার্স সুষমা এসে বালু মাটিতে পড়ে থাকা শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

সিভিল সার্জন অর্ধেন্দু রায় বলেন, “তদন্তের স্বার্থে শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো চিকিৎসককে কমিটিতে রাখা হয়নি।”

তবে এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে তিনি জানান।


পিএনএস/বাকিবিল্লাহ্

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech