করোনায় যে কারণে পুরুষের মৃত্যু বেশি

  

পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বের ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ করোনাভাইরাস। মঙ্গলবার অব্দি করোনায় বিশ্বের ৪ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন মোট ১৮ হাজারের বেশি মানুষ। তবে করোনায় নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। সূত্র: সিএনএন

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান, মদ্যপান এবং দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কারণেই এমনটা ঘটছে। এসব অভ্যাসের কারণেই করোনায় পুরুষদের মৃত্যুঝুঁকিও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে এবং মৃত্যুতে প্রথমে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৬৮২০ জন। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫২৪৯ জন। আর সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৬৯১৭৬ জন।

ইতালির জাতীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএএন জানায়, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ৬০ ভাগই পুরুষ। আর করোনায় মারা গেছে সে দেশের ৭০ ভাগের বেশি পুরুষ।


এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে যেখানে করোনায় আক্রান্তে এগিয়ে রয়েছে নারীরা, সেখানেও পুরুষের মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি।

দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ৫৪ ভাগই পুরুষ। হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস বিষয়ক সমন্বয়কারী ড. দেবোরাহ বিরক্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইতালির দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই যে, সেখানে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।

তিনি বলেন, যে কোনও বয়সের নারীদের তুলনায় পুরুষদের মৃত্যুর হার বেশি। তিনি আরও বলেন, ইতালির এই তথ্য আমাদের সাহায্য করবে। এর ফলে কাদের সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কিভাবে রাখতে হবে সে বিষয়ে আমরা মার্কিন জনগণের সঙ্গে কথা বলতে পারব।

গ্লোবাল হেলথ ৫০/৫০-এর সহ-পরিচালক সারা হকস বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার বেশি। এর আগেও সার্স এবং মার্সের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন ম্যাকগভার্ন মেডিকেল স্কুলের রোগের সংক্রমক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস অস্ট্রোস্কি।

এর আগে হংকংয়ে সার্স ভাইরাসে পুরুষরা বেশি আক্রান হয়েছেন। মার্সের ক্ষেত্রেও পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি ছিল।

বেশ কিছু গবেষণা বলছে, নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় ভাইরাস তাদের মৃত্যুর হার কম।

অন্যদিকে পুরুষেরা সিগারেট ও মদ্যপানসহ নানা অস্বাস্থ্যকর জীবনপদ্ধতিতে অভ্যস্ত হওয়ায় ভাইরাসে তাদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয় হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও এ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন