ভারতের মুদ্রারহিতকরন সর্বনাশ করছে স্বর্ণের বাজারের

  


পিএনএস ডেস্ক: যদিও বাজারের সাম্প্রতিকতম বা সর্বশেষ প্রবণতা ছিল অযৌক্তিক আচরণ তথাপি ধারণা করা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে হয়তো আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজার ফের চাঙ্গা হতে পারে। কিন্তু মোটের ওপর তার নীতিমালাগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় এবং উচ্চ প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি হার থেকে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে।

এদিকে স্বর্নের বাজার আরো দ্রুত নিচের দিকে নামছে। ট্রাম্পের বিজয়ের সম্ভাবনায় স্বর্নের বাজার কিছুটা চাঙ্গা হচ্ছিল। কিন্তু এরপর থেকে এটি ফের উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করে।

মন্দাসহ স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি এর পেছনের বড় একটি কারণ। তবে গত কয়েক সপ্তাহে স্বর্নের বাজারের দ্রুত পতনের পেছনে আরেকটি কারণ ক্রিয়াশীল ছিল। আর এটি হলো ভারত।

ভারত এবং চীন স্বর্নের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এই দুটি দেশ একসঙ্গে বিশ্ববাজারের ৫০% স্বর্ণের ভোক্তা। চীন এখনো স্বর্ণের বাজারের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়। তবে ভারতীয়রা বছরে ৭০০-৮০০ টনে চাহিদা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ভারতীয়রা চীনাদের চেয়ে গরীব হলেও তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ স্বর্নের পেছনে ব্যয় করেন। পৃথিবীতে ভারতীয়রাই দৈনন্দিন জীবন-যাপনে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ ব্যবহার করেন।

আর সম্প্রতি ভারতীয়দের স্বর্ণ কেনার একটি নতুন কারণ হলো, বেআইনী এবং গুপ্ত ব্যবসা থেকে অর্থ তুলে নিয়ে আসা। আর এসব বেআইনী এবং গুপ্ত ব্যবসা ভারতীয় অর্থনীতির ২০ থেকে ২৫% দখল করে রেখেছে।

আর এসব অবৈধ ব্যবসা কঠোর হাতে দমণ করার জন্যই মোদি সরকার ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট প্রত্যাহার করে নেওয়ার এক নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল গত ৯ নভেম্বর। আর এরপর থেকেই স্বর্ণের বাজার পড়ে যেতে থাকে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবছর স্বর্ণ আমদানি ৫৯% কমে যায়।

ভারতীয় সোনারুপা এবং গহনা অ্যাসোসিয়েশন এখন এর ২,৫০০ সদস্যকে সতর্কতা জারি করেছে মোদি হয়তো এই অবৈধ ব্যবসা দমণে কিছুদিনের জন্য স্বর্ণ আমদানিও বন্ধ করতে পারেন। আর তেমনটা ঘটলে স্বর্ণের দামের যা ঘটবে অকল্পনীয়! সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech