স্বর্গে চলে যাচ্ছি মা, সেখান থেকে তোমাদের দেখাশোনা করবো

  

পিএনএস ডেস্ক : লন্ডনে গ্রিনফেল টাওয়ারে দাউ দাউ জ্বলছে আগুন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে আসছে মৃত্যু। তার মাঝে আটকে পড়েছেন ইতালির আর্কিটেক্ট গ্লোরিয়া ট্রেভিসান। তিনি দেখতে পাচ্ছেন কোনো রেহাই নেই। এমন সময় কম্পিত হাতে তুলে নিলেন ফোন। ডায়াল করলেন। ওপারে ফোন ধরলেন তার পিতামাতা। কান্নায় ভেঙে পড়লেন গ্লোরিয়া। বললেন, বাঁচার কোনো পথ নেই। নিশ্চিত মৃত্যু এগিয়ে আসছে। আমি স্বর্গে চলে যাচ্ছি। সেখান থেকে তোমাদের দেখাশোনা করবো।

ফোনকলে এই ছিল গ্লোরিয়ার সঙ্গে তার পিতামাতা মানুয়েলা ও লোরিস ট্রেভিসানের শেষ কথা। তারপর আর কোনো হদিস পান নি। শেষ পর্যন্ত যে খবর মিলেছে তা হলো তাদের মেয়ে গ্লোরিয়া ওই ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। গ্লোরিয়া যখন ফোন করেছিলেন তখন বাসায় ছিলো না তার ভাই। তাকে শোনানোর জন্য ওই ফোনকল রেকর্ড করে রেখেছেন পিতামাতা। তবে তা এখনই প্রকাশ করতে চান না তারা।

এটা আদালতে তুলে দেবেন। অনুমতি পেলে প্রকাশ করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, সংসারে টানাপড়েন থাকায় গ্লোরিয়া একজন আর্কিটেক্ট হিসেবে লন্ডন এসেছিলেন। এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন গ্রিনফেল টাওয়ারে। এ বিষয়ে তার পারিবারিক আইনজীবী মারিয়া ক্রিস্টিনা স্যানড্রিন বলেছেন, মারা যাওয়ার আগেও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন গ্লোরিয়া। তিনি বলেছেন, আমি স্বর্গে যাচ্ছি। ওখান থেকেই আমি তোমাদের সাহায্য করবো। মাত্র তিন মাস আগে গ্লোরিয়া সংসারের টানাপড়েনের কারণে ইতালি ছাড়েন। চলে আসেন লন্ডনে।

এখানে তিনি আর্কিটেক্ট হিসেবে একটি কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। উল্লেখ্য, লন্ডনের ওই আগুনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৮ জন মারা যাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৭০ জন। তাদের অবস্থা কি হয়েছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ওদিকে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ বলেছে, অগ্নিসংযোগ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত এমনটা মোটেও মনে হচ্ছে না। তবে সিনিয়র গোয়েন্দারা কারণ অনুসন্ধান করছেন।

পিএনএস/জে এ/ মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech