মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চায় রোহিঙ্গা ইউনিয়ন

  

পিএনএস ডেস্ক: রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ বন্ধে মায়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নির্যাতন বন্ধে শক্ত অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গাদের ৬১টি সংগঠনের সমন্বয় গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের নেতারা। রাখাইনে সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছে ওআইসি অনুমোদিত সংগঠনটি।

এদিকে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক। এতে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা যাতে মায়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেন সে প্রত্যাশা করেন আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সংগঠনটির নেতারা। তারা রোহিঙ্গাদের রক্ষা এবং রাখাইনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ওআইসির কাছে শুক্রবার পেশ করা এক প্রতিবেদনে এসব দাবি জানায় ৬১টি সংগঠনের সম্বনয় গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন। সংস্থার মহাপরিচালক ড. ওয়াকার উদ্দিন রোহিঙ্গা নিধনের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

ওআইসির ৩৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে এ সংগঠনকে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এদিকে, রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ না হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ভারি আর্টিলারি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের শিরচ্ছেদ, জবাই ও সংক্ষিপ্ত বিচারের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বৌদ্ধ মিলিশিয়ারা হত্যাযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগ করছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা রাখাইনে নির্মমতার যে বর্ণনা দিয়েছেন তার সঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নের এসব তথ্য মিলে যায়।

ওআইসির কাছে দেয়া প্রতিবেদনে মায়ানমারের ওপর যেন ফের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় সে জন্য ভূমিকা রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সামরিক শাসনের অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে দেশটির ওপর বহু বছর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল। সুচির দল ক্ষমতায় আসার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তবে কিছু কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল আছে।

আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন উত্তর রাখাইনের দুর্গত এলাকায় আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী ও গণমাধ্যমকে অবাধে প্রবেশ, এখানে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন, জাতিসংঘের তদন্ত দলকে প্রবেশের সুযোগ দেয়া, রোহিঙ্গা বিদ্বেষ বন্ধ ও ১৯৮২ সালের কুখ্যাত নাগরিকত্ব আইন বাতিল করার দাবি জানায়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মায়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাবে সমর্থন দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসি, কানাডার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেসে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় শুনানির আহ্বান জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটি মিয়ানমার সরকারের কাছেও বেশকিছু সুপারিশ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেয়া, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন, বেসামরিক লোকদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলা, নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও রোহিঙ্গাবিরোধী মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করা।

আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন জানায়, মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ, ভুয়া সাক্ষ্য, বিকৃত ভিডিও ক্লিপ ও ছবি সরকারি উদ্যোগে তৈরি করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য- সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাড়ানো এবং সঠিক খবরকে কলঙ্কিত করা। মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের মতো দেখতে অনেক হিন্দুকে দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আগুন দিয়ে প্রচার করছে যে রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করছে। সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেড রাখাইন সফরকালে এ ধরনের একটি ঘটনা উদ্ঘাটন করেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech