ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে নতুন মোড়!

  

পিএনএস ডেস্ক : দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক বিরোধের অবসান গঠিয়ে অবশেষে ফিলিস্তিনে হামাস ও ফাতাহ গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা জাগ্রত হয়েছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

ফাতাহর সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যের সরকার গঠন ও একটি অভিন্ন সাধারণ নির্বাচন আয়োজনে ফাতাহর সঙ্গে মতৈক্যে পৌঁছেছে তারা

রবিবার এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ফাতাহ নেতা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রস্তাবিত শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে এবং শর্তানুযায়ী গাজায় হামাসের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

ফাতাহ নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতো সমান্তরাল সরকার হিসেবে গাজা উপত্যকা শাসন করে আসছিল হামাস। এর ফলে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গঠনে নানামুখী সমস্যা তৈরি হয়।

২০০৭ সালে ফিলিস্তিনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে হামাস বিজয় দাবি করায় এ নিয়ে ফাতাহর সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যায়। সেই থেকে হামাস ও ফাতাহ পৃথক দুটি সরকার পরিচালনা করে আসছে। ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বায়ত্তশাসিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকার পরিচালনা করে আসছিল মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ এবং গাজার নিয়ন্ত্রণ ছিল হামাসের হাতে।

দুই পক্ষের মধ্যে বারবার সমঝোতার চেষ্টা দেখা গেলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু রবিবার হামাস যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে তারা মাহমুদ আব্বাসকে গাজায় ঐক্য সরকার পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, ফাতাহর সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত তারা।

২০১৪ সালে ঐক্য সরকার গঠন করা গেলেও গাজায় সরকার পরিচালনা করতে পারেননি মাহমুদ আব্বাস। এবার সেই সুযোগ তৈরি হলো। হামাসের আহ্বানের পর ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নিরসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েল ও মিশরের অব্যাহত অবরোধের মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছে কট্টর ইসলামপন্থি হামাস মুভমেন্ট। ইসরায়েলের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা হামাসকে চাপে ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় হামাসের সঙ্গে বৈরিতা চলছে মিশরের বর্তমান সামরিক সরকারের।

মার্চ মাসে গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করলে হামাসের ওপর চাপ বাড়ান মাহমুদ আব্বাস। গাজায় বিদ্যুতের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমানো এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেতন না দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

তবে রবিবার সমঝোতার যে ঘোষণা এসেছে, তা যে কণ্টকহীনভাবে কার্যকর হবে, তার শতভাগ নিশ্চয়তা নেই। ২০১১ সালে মিশরের মধ্যস্থতায় এমন সমঝোতা হলেও তা ভেস্তে যায়। আব্বাস সরকারের অধীনে হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে সমঝোতা ভণ্ডুল হয়ে যায়। তবে এবারের সমঝোতায়ও মিশরের ভূমিকা রয়েছে। গত সপ্তাহে মিশর সফর করেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।

গাজা উপত্যকায় প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ক্রমেই মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। গাজার অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক এবং এখানে বেকারত্বের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি।

মানবিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারে ইসরায়েলের প্রতি বহুবার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech