জাতিসংঘকে মিয়ানমারের উপহাস, জাতি নিধনের অভিযোগ অস্বীকার

  

পিএনএস ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গা জাতি নিধন ও নৃশংসতার অভিযোগ ঢালাওভাবে অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। উল্টো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনায় বিশ্ব নেতাদেরই দৃশ্যত উপহাস করেছেন জাতিসংঘে নিয়োজিত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ ডু সুয়ান। জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে বিতর্কের শেষ দিকে তিনি এমন অভিযোগ করেন। উল্টো তিনি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদেরই দায়ী করলেন। বললেন, তারা ভয় দেখিয়ে, ভীতি প্রদর্শন করে মুসলিম পুরুষ, নারী ও শিশুদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে যেতে বাধ্য করেছে।

সাফ জানিয়ে দিলেন, রাখাইনে জাতি নিধনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাহলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার জায়েদ রাদ আল হোসেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ অসংখ্য ব্যক্তি, সংস্থা ও দেশ কি মিথ্যা অভিযোগ আনছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে যেভাবে মানুষ হত্যা করার ভিডিও দেখা যাচ্ছে, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, ধর্ষিত নগ্ন নারীর খন্ড বিখন্ড লাশ ফেলে রাখা হয়েছে পথের ওপর, এখানে ওখানে পড়ে আছে মৃতদেহ, ধর্ষণের শিকার হয়ে যেসব নারী রক্তাক্ত অবস্থায় বাংলাদেশে এসেছেন, সন্তান প্রসব করে যে হামিদা নাড়ি কাটার সময় না পেয়ে সে অবস্থায়ই জীবন বাঁচানোর তাগিদে ছুটেছেন, স্যাটেলাইনে ধারণ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, নাফ নদীর এপার থেকে জ্বলতে দেখা গেছে গ্রামÑ এসব কিসের আলামত! এসব বিষয় ব্যাখ্যা করেন নি হাউ ডু সুয়ান। সেনাবাহিনী যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস’ চালিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলেন নি। নেত্রী অং সান সুচি সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে নিন্দা জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে কথা বলেন নি তিনি।

চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ ডু সুয়ান সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই তাদের বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই নারী, পুরুষ, শিশুদের বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য করেছে। ঔদ্ধত্যের সঙ্গে তিনি জোর গলায় বলেন, আমাকে পরিষ্কার করে বলতে দিন। কোনো জাতি নিধন হয় নি (রাখাইনে)। কোনো গণহত্যা ঘটানো হয় নি। উল্টো আমার দেশের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনের মতো কথাবার্তা বলা হয়েছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘে যোগ দেয়া নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো এই চেম্বারে (জাতিসংঘ অধিবেশনে) ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে বার বার। বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে জাতি নিধন চলছে।

কিন্তু সত্যের বাইরে কিছু নয়। নৃশংসতা, জাতি নিধন, গণহত্যার মতো টার্ম বা শব্দ হালকাভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। নিরেট প্রমাণের ভিত্তিতেই কেবল এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত। তিনি জাতিসংঘের নেতাদের জ্ঞান দান করে বলেছেন, এগুলো অত্যান্ত গুরুত্বর অভিযোগ। পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ও বিচারিক সিদ্ধান্তের পরই এগুলো ব্যবহার করা যায়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলার আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখ্য মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেছেন, ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর থেকে চার লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। নতুন এই সংঘাত এক মাস ধরে চলছে সেখানে। সোমবারও মিডিয়ায় খবর এসেছে, এখনও রোহিঙ্গারা আসছেন। মাঝখানে দু’একদিন বিরতি দিয়ে তাদের সংখ্যা আবার বাড়ছে। এমন বাস্তবতার নিরিখে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাউ ডু সুয়ান বললেন, আমি এখানে উপস্থিত প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাবো রাখাইনের বিষয়টি নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীনভাবে দেখার জন্য। আমরা জাতি নিধন ও গণহত্যা প্রতিরোধে সব কিছুই করবো। রাখাইনের ইস্যুটি আসলেই চরম মাত্রায় জটিল। ওদিকে ২৫ শে আগস্ট সেনা ও পুলিশ পোস্ট ও ক্যাম্পে হামলা চালায় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিরা। এর দায় স্বীকার করে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এর পরেই সেনাবাহিনী শুরু করে নৃশংস অভিযান। এর পক্ষে গত এক মাসে সাক্ষ্য দিয়েছে বিশ্ব নেতারা, বিশ্ব গণমাধ্যম। মানবাধিকার সংগঠন। ওদিকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আরো বলেছেন, আরসা’কে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে ঘোষণা করেছে মিয়ানমার সরকার। তিনি দাবি করেন, মিয়ানমারের সর্বোচ্চ ইসলাম ধর্মীয় সংগঠনও আরসার হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তিনি বলেন, ভয়াবহ ওই হামলায় বিপুল প্রাণহানী, সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech