ভারতীয় ট্রানজিটে হয়রানি

  

পিএনএস ডেস্ক: ভারতের ট্রানজিট প্রক্রিয়া সহজ এবং পরিবহন সেবা কার্যকর করা হলে নেপালের বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যয় ব্যাপকভাবে হ্রাস হতো। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

নেপালের বেশির ভাগ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য ভারতের সড়ক বা রেলপথ কিংবা কলকাতা বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে।

আমদানি ও রপ্তানির সাথে জড়িত কোম্পানিগুলো আইটিসির সমীক্ষার সময় বলেছে, কলকাতা বন্দরের কার্যক্রম মানসম্মত নয়। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে নেপালের ট্রানজিট কার্গো বোঝাই ও পরিবহনে ওয়াগন বরাদ্দে কোনো ধরনের অগ্রাধিকার প্রদানের ব্যবস্থা নেই।

তাছাড়া ট্রানজিট পরিবহনের জন্য উচ্চগতির রেলওয়ে ও সড়ক না থাকায় আমদানিকারকরা সমস্যায় পড়েন। ওয়াগন সরবরাহে দেরির কারণেও তারা সমস্যায় পড়েন। অধিকন্তু নেপালি পণ্যের জন্য ভারতীয় গুদামে জায়গাও অপর্যাপ্ত। তাদের কন্টেইনারগুলোর জন্য আলাদা কোনো জায়গাও নেই।

তাছাড়া ওয়াগন ও র্যাকের স্বল্পতার কারণে আমদানিকারকদের আরো নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আমদানিকারকরা চেষ্টা করেও তাদের পণ্য পরিবহন করতে পারে না। আবার অতিরিক্ত সময় বন্দরে রাখার কারণে তাদেরকে অতিরিক্ত মাশুল গুণতে হয়।

নেপাল সরকারের এক সমীক্ষার কথা উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালি ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর কলকাতা বন্দরে প্রায় ৬৯ মিলিয়ন ডলার ড্যামারেজ দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য পরিবহনে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত গুদাম ভাড়াও দিতে হয়। তাছাড়া পণ্য নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। অনেক সময় মওসুমি পণ্য পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দরে প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং সীমান্তে তল্লাসির কারণেও ট্রানজিটে অনেক সময় লেগে যায়। আবার নেপালে শিপিং লাইনারগুলোর অফিস না থাকায় ব্যবসায়ীদেরকে কলকাতা বন্দরের এজেন্ট ও বুকিং এজেন্টদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এটাও তাদের জন্য সমস্যার কারণ।

প্রতিবেদনে কলকাতা ও নেপাল সীমান্তের মধ্যে রাস্তার খারাপ অবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ট্রানজিট পরিবহন অপারেটররা বলেছে, রাস্তা খারাপ থাকার কারণে নেপাল ও কলকাতার মধ্যকার দূরত্ব দুই থেকে তিন দিনের বেশি লাগার কথা না থাকলেও অন্তত সাত দিন লেগে যায়।

তৃতীয় দেশ থেকে আসা নেপালগামী পণ্য সড়ক ও রেলপথে আনা হয়। প্রায় ৫০ ভাগ মালামাল পরিবহন করা হয় সড়কপথে। কলকাতা ও নেপালের বিরগঞ্জের মধ্যে দুটি সড়ক করিডোর রয়েছে। কলকাতা-বরাইনু-রাক্সুল রাস্তার কিউল অংশটি খুবই সরু। এর ফলে যাত্রা হয় খুবই মন্থর ও কঠিন। একইভাবে দ্বিতীয় করিডোর কদমা ঘাটি অতিক্রম করেছে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে। বড় ট্রাকের পক্ষে এই পথ পাড়ি দেয়া খুবই কঠিন কাজ।

আবার কলকাতা থেকে কার্গোগুলোকে তিনটি ভারতীয় রাজ্য – বিহার, উত্তর প্রদেশ ও বাংলা – পাড়ি দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা এতে অতিরিক্ত ব্যয় ও টানাহ্যাচড়ার অভিযোগ করেছেন।

আইটিসি প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নেপালি কার্গোর জন্য অতিরিক্ত প্রবেশ ও নির্গমন ফি এবং ভারতীয় কাস্টম ও এজেন্টদের আরোপ করা চার্জ হয়ে থাকে নানা ধরনের। যেমন শিপিং লাইন চার্জ, হলেজ চার্জ, পোর্ট হ্যান্ডেলিং চার্জ, কন্টেইনার ক্লিয়ারিং চার্জ ইত্যাদি। এতে করেও নেপালি ব্যবসায়ীদের বোঝা বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech