ধর্মান্তরিত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ

  

পিএনএস ডেস্ক: নিজের ধর্মান্তরিত স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেয়া দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারে।
হত্যার শিকার ওই নারীর নাম পেটিট সিনেয়াদ উডিং। তিনি চার সন্তানের জননী ছিলেন। তার স্বামীর নাম আসকার আলী। আসকার আলী তাকে ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে বলে মামলার আইনজীবী আদালতকে জানান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী নিকোলাস ক্যাম্পবেল ‘লিডস ক্রাউন কোর্ট’কে জানায়, ২৬ বছর বয়সী ওই নারীর মৃতদেহটি পুড়িয়ে ফেলার উদ্দেশ্য বনভূমিতে নিয়ে যাওয়ার আগে সেটি ভুগর্ভস্থ একটি ঘরে দুই দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। পরে লাশটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
তিনি দাবি করেন যে, নিহতের স্বামীর বন্ধু ইয়াসমিন আহমেদ মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলতে আসকারকে সহায়তা করেছে।
ইয়র্কশায়ার কাউন্টির লীডসের ইনডোর মার্কেটের একটি খাবারের স্টলে কাজ করতেন আসকার আলী। সেখানেই আসকারের সঙ্গে সিনেয়াদ উডিংয়ের সাক্ষাৎ হয়। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর উডিং তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন জাকিরা।

মামলার শুনানিতে বলা হয়, তারা ইসলামিক উপায়ে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কিন্তু তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল ‘অস্থির প্রকৃতির’ এবং কখনো কখনো সহিংস।
উডিং তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে তাদের মধ্য মনোমালিন্য ছিল। এর আগে উডিংকে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎকে নিষিদ্ধ করেছিলেন আসকার।
ক্যাম্পবেল বলেন, উডিং তার বিয়ে নিয়ে চাপের মধ্যে ছিল এবং মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সে আবারো পাশ্চাত্য পোশাক পরা শুরু করেছিলেন।
১১ মে তারিখে এই দম্পতি ইয়াসমিন আহমেদের বাড়িতে একটি পার্টিতে গিয়েছিল। পরে ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে কিছু একটা শব্দ শুনতে পায় উপস্থিত লোকজন।
কি ঘটেছে তা দেখতে আহমদ রান্নাঘরে যায় এবং ফিরে এসে বলেন- উডিং দরজা মধ্যে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছে কিন্তু সবকিছু ঠিক আছে।

তারপর আসকার আলী এসে উপস্থিত লোকজনকে বলেন যে উডিং বাসায় চলে গেছে। ক্যাম্পবেল বলেন, ‘কিন্ত প্রকৃত সত্য হচ্ছে সিনেয়াদ উডিং সেখান থেকে সেদিন জীবন্ত অবস্থায় যায়নি।’
তিনি দাবি করেন যে তাকে হত্যা করার আগে তাকে অচেতন করা হয়েছিল। পরে তাকে ছুরি দিয়ে কয়েকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তার শ্বাসনালী কেটে ফেলা হয়।
তিনি বলেন, ‘উডিং যদি সে সময় চেতন থাকতেন, তবে তিনি বাঁচার জন্য অবশ্যই চিৎকার করে কাঁদতে থাকতেন।’

তিনি আদালতে বলেন, তাকে একাধিক বার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তার খুলিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মৃতদেহ ভুগর্ভস্থ ঘরে রাখার দুই দিন পর সেটি তার দিয়ে পেঁছিয়ে মধ্য রাতে বনে নিয়ে যাওয়া হয়। তার তা পুড়িয়ে ফে
লা হয়।
হত্যার তিন দিন পর ১৪ মে তারিখে নিহতের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়।
তবে, আসকার আলী এবং ইয়াসমিন আহমেদ উভয়েই এই হত্যার কথা অস্বীকার করেছে।

এই মামলায় আরো তিনজনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন- আসকার আলীর ভাই আসিম (২১), তার মা আকতার বে (৪৫), ভিকি ব্রিজ (২৫)।
তাদের বিরুদ্ধে মৃতদে পোড়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: মিরর

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech