`নরওয়ে যা ঘটেছে তা তুরস্কের জন্য অপমানজনক'

  


পিএনএস ডেস্ক: নরওয়েতে অনুষ্ঠিত ন্যাটো জোটের সামরিক মহড়া চলাকালীন যা ঘটেছে তা তুরস্কের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

শুক্রবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন পার্টির সদস্যদের উদ্দেশ্যে এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, ন্যাটোর মহড়ায় তার নিজের ও আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের নাম শত্রু তালিকায় রাখার কারণে তিনি মহড়া থেকে ৪০ জন তুর্কি সেনাকে দেশে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটেছে এবং এটা দেশের জন্য অপমানজনক। ফলে তিনি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

ন্যাটো জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈন্য রয়েছে তুরস্কের এবং সিরিয়া, ইরাক ও ইরান সংলগ্ন তুর্কি সীমান্ত ন্যাটোর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জোট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আঙ্কারার দূরে সড়ে যাওয়ার কারণে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমাগতভাবে খিটখিটে হয়ে উঠেছে; যা পশ্চিমাদের উদ্বিগ্ন করেছে।

নরওয়েতে প্রশিক্ষণ মহড়ার সময় ‘শত্রু পোস্টার’ নামে একটি পোস্টার উন্মোচন করা হয়। এর একপাশে ছিল প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নাম এবং অন্যপাশে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতার্তুকের ছবি।

এদিকে এই ঘটনার পর তুরস্কের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ।

জোটের যৌথ ওয়ারফেয়ার সেন্টারের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ন্যাটো মহাসচিব ও নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেন স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘নরওয়ের সামরিক মহড়াস্থল স্ট্যাভেনগার কেন্দ্রে এ ঘটনার কথা আমি জেনেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি।’

একটি লিখিত বিবৃতিতে স্টলটেনবার্গ বলেন, এ ঘটনা কেউ ব্যক্তিগভাবে ঘটিয়েছে এবং এটি নাটোর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে না।’

ন্যাটো প্রধান বলেন, নরওয়ের একজন বেসামরিক ঠিকাদার এই কাজ করেছেন। তিনি ন্যাটোর কোনো কর্মী নন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক প্রশিক্ষণ মহড়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নরওয়েজিয়ান কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তিনি জানান।

স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘ন্যাটোর জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হচ্ছে তুরস্ক। জোটের নিরাপত্তায় দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’

একটি আলাদা বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাক্ক-জেনসেন বলেন, প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন সময়ে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপত্তিকর এই বার্তাটি ছড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই বার্তাটি নরওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বা নীতিমালাকে প্রতিফলিত করে না এবং আমি বার্তাটির বিষয়বস্তুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থা অনুসরণ করে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে।’
সূত্র: রয়টার্স

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech