বউয়ের কারণে এমন পরিণতি!

  

পিএনএস ডেস্ক: ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের উচ্চাভিলাষি ও আগ্রাসী স্বভাবের কারণেই জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পতন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। গত বুধবার দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। শপিংয়ে প্রচুর অর্থ খরচ করার বদনাম রয়েছে গ্রেস মুগাবের। ভ্রমণসহ সব কিছুতেই বিলাসী জীবন। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পোশাক, প্রসাধনী, বিলাসবহুল হোটেল ও বিমান ছাড়া চলতো না তার। যার সব কিছ্ইু মেটানো হতো রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

তবে মুগাবের চেয়ে বয়সে ৪১ বছরের ছোট গ্রেসের সম্প্রতি নজর পড়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের দিকে। স্বামী মুগাবের ওপর তার প্রভাব ছিল প্রচুর। এমনকি মুগাবেকে সরিয়েই তিনি এই পদে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। আর এটিই জিম্বাবুয়ের সর্বশেষ সঙ্কটের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করে গ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেন রবার্ট মুগাবে। তবে তাকে ঠেকাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার বিশ্লেষক শাদরাক গুট্টো বলেন, ‘গ্রেসের কারণেই এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তিনি ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন। নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যাওয়ার উচ্চাভিলাষ ছিল তার। স্বামীকে ক্ষমতা থেকে সরাতেও পরিকল্পনা করেছিলেন গ্রেস। কিন্তু সেনাবাহিনী ভেবেছে এটি আর চলতে দেয়া যায় না’।

গ্রেসের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের সমর্থক ছিল তথাকথিত জি-৪০ নামে যুবকদের একটি গ্রুপ, যারা বরাবরই আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত। এই দ্বন্দ্বে জড়িত ছিল জিম্বাবুয়ের কিছু মন্ত্রীও। থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউজের বিশ্লেষক নক্স চিত্তিয়ো বলেন, ‘সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে। আগামী মাসে জানু-পিএফ পার্টির কংগ্রেসে গ্রেসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার আগেই তারা হস্তক্ষেপ করে’।

পিএনএস/কামাল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech