রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার হয়ত গণহত্যা চালিয়েছে

  


পিএনএস ডেস্ক: মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হয়ত গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেইদ আল রাদ আল হুসেইন।

এই প্রথম জাতিসংঘের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মতো অভিযোগ তুললেন। বিবিসি বাংলার খবর।

জেইদ আল রাদ আল হুসেইন এর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতাকে জাতিগত নির্মূল অভিযানের জ্বলন্ত উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল অব এথনিক ক্লিনজিং) বলে বর্ণনা করেছিলেন।

জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের এক জরুরি অধিবেশনে মঙ্গলবার এক ভাষণে তিনি `গণহত্যার` আশঙ্কার কথা বলেন।

বাংলাদেশের অনুরোধে মানবাধিকার কাউন্সিলের এই জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়।

জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, গণহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সাধারণত জেনোসাইড বা গণহত্যা শব্দটি হালকাভাবে ব্যবহার করেন না।

জেইদ আল রাদ আল হুসেইন যে এই শব্দটি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতায় জাতিসংঘ কতটা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবিসি সাংবাদিক ইমোজেন ফুকস বলছেন, শুধু তাই নয়, এতে আরো স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে অং সান সুচির ব্যর্থতাতেও তারা হতাশ।

এ বছরে অগাস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মুখ থেকে শোনা গেছে গণহত্যা, ধর্ষণ, গ্রামে গ্রামে অগ্নিসংযোগের বর্ণনা।

জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, তাদের (রোহিঙ্গা) মুখে এসব ঘটনার বিবরণে এতটাই মিল যে, জাতিসংঘ এখন মনে করছে, সেখানে যে গণহত্যা চলেছে, সে সম্ভাবনা আর উড়িয়ে দেওয়া চলে না।

তিনি বলেন, আমরা যদি রোহিঙ্গাদের স্বতন্ত্র নৃতাত্ত্বিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সত্তার কথা ভাবি এবং যারা সহিংসতা ঘটাচ্ছে, তাদের আলাদা সত্তার কথা মনে রাখি, তাহলে গণহত্যা যে ঘটে থাকতে পারে, তা উড়িয়ে দেওয়া চলে না। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে একইরকম হত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ বর্বরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আল হুসেইনি আরো বলেছেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির অব্যাহত নজরদারি এবং শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদা নিয়ে বসবাসের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাউকে দেশে ফেরত পাঠানো উচিত হবে না, এটা দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট হতে হবে।

অবশ্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেছেন, এই সহিংসতা মিয়ানমারর সরকারের নীতি নয়, বরং চরমপন্থীরা এসব ঘটাচ্ছে এবং তাদের ঠেকাতে সরকার সবকিছুই করছে।

আল হুসেইনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের মিয়ানমারের প্রতিনিধি যাই বলুন, বৈষম্য ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিতভাবেই আরো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

এদিকে, মঙ্গলবার চীনের প্রবল বিরোধিতায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়নি। মঙ্গলবার জেনেভায় কাউন্সিলের ২৭তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের আনা প্রস্তাবটি ৩৩-৩ ভোটে পাস হয়।

প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের অনুরোধে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ‘মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনটি ডেকেছিল। অধিবেশনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি প্রস্তাবের খসড়া দেয়। তাতে সমর্থন জানায় সৌদি আরব।

বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হলে ৪৭ সদস্যের কাউন্সিলে ন্যূনতম ১৬টি বা এক-তৃতীয়াংশ দেশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। কাউন্সিলের ৩৩টি সদস্য দেশ এবং ৪০টি পর্যবেক্ষক দেশ বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাবে সমর্থন দেয়।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech