যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এইচআরডব্লিউ'র আহ্বান - আন্তর্জাতিক - Premier News Syndicate Limited (PNS)

যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এইচআরডব্লিউ'র আহ্বান

  



পিএনএস ডেস্ক: নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আহমাদ বিন শামসি ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের দায়দায়িত্ব সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমানের ওপর বর্তায়।

ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো পাশ্চাত্যের মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও নাড়া দিয়েছে। অথচ এরা সবসময়ই সৌদি আগ্রাসনের ব্যাপারে নীরব থাকত।

ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ ক্রমেই সোচ্চার হচ্ছে। সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান চিন্তাগত দিক থেকে খুবই অপরিপক্ক এবং হিংস্র প্রকৃতির মানুষ।

তিনিই সৌদি আরবের জন্য অন্ধকার ভবিষ্যতের পটভূমি রচনা করছেন। সারা পৃথিবীতে ধর্মের নামে বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।

প্রকৃত ইসলামকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করার পাশাপাশি মুহাম্মদ বিন সালমান ওয়াহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ ও সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি আরো বিপজ্জনক ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে মুহাম্মদ বিন নায়েফকে যুবরাজের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজ পুত্র মুহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হবেন পরবর্তী রাজা। এভাবে অনেকটা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৌদি আরবের ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন মুহাম্মদ বিন সালমান।

তিনিই একদিকে দেশের অভ্যন্তরে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন অন্যদিকে, বাহরাইন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়ে সমগ্র ওই অঞ্চলে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত দৈনিক গার্ডিয়ান কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে সৌদি যুবরাজকে ইয়েমেনে রক্তপাতের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

প্রতিবেদনে আরো লেখা হয়েছে, গত কয়েক মাসের ঘটনাবলীতে প্রমাণিত হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ বিন সালমান সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্থাৎ রাজার পদে অধিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। এমনকি সালমানের কর্মকাণ্ডের কারণে খোদ সৌদি আরবের পরিণতিও ভালো হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুহাম্মদ বিন সালমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর সৌদি আরবের শাসন ব্যবস্থা চরম স্বৈরাচারী রূপে আবির্ভূত হয়েছে এবং এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্র ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের নীতি হস্তক্ষেপমূলক এবং ফেতনা সৃষ্টিকারী। দেশটি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করছে।

তার ভুল ও আগ্রাসী পররাষ্ট্র নীতির কারণে বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয়নি এবং সৌদি আরবের অবস্থা আগের চেয়ে আরো বেশি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এরই মধ্যে দেশটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবেও কুখ্যাতি অর্জন করেছে। এ ছাড়া, মুহাম্মদ বিন সালমান রাজার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য পথ পরিষ্কার করতে তার সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা যথার্থ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech