সিনেমা আর বিনোদনে শত শত কোটি ডলার ঢালছে সৌদি

  



পিএনএস ডেস্ক: সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সে দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার অংশ হিসেবে আগামী দশকে সেখানকার বিনোদন শিল্পে প্রায় সাড়ে ছশো কোটি ডলার লগ্নি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদির জেনারেল এন্টারটেইন অথরিটির প্রধান আহমেদ বিন আকিব আল-খাতিব জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি ও বেসরকারি, উভয় খাত থেকেই আসবে।

পুরো সৌদি আরব জুড়ে সে দেশের পঞ্চাশটি শহরে এই বছরে পাঁচ হাজারেরও বেশি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
রাজধানী রিয়াদে এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ধাঁচে একটি অপেরা হাউস নির্মাণেরও কাজ শুরু হয়েছে।
আল-খাতিব বলছেন, ‘ইনশাল্লাহ্, ২০২০ সালের মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন সৌদি আরবে সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটে গেছে।’

সৌদি আরবের তরুণ যুবরাজ যে ভিশন-২০৩০ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন, তার আওতায় এর মধ্যেই সে দেশে সিনেমা হল চালু হয়েছে, আয়োজন করা হচ্ছে কনসার্টেরও। কিছুদিন আগে বিভিন্ন কমিকসের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে নিয়ে সৌদিতে একটি কমিক-কন সাংস্কৃতিক উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছিল।

তা ছাড়া সম্প্রতি সৌদিতে যে জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে, তাতেও এই প্রথমবারের মতো নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নিয়েছিলেন। রাজপথে ইলেকট্রনিক মিউজিকের তালে তালে সৌদির ছেলে-মেয়েরা সেদিন একসাথে নেচেছিলেন, যে দৃশ্য সেখানে আগে কখনও দেখা যায়নি।

এর আগে সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হবার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়াই করে তার বন্ধুদের বলেছিলেন, তিনি আর তার জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদি আরবে একটি 'অভ্যুত্থানের পেছনে' কলকাঠি নেড়েছেন। ‘আমরা আমাদের একজন লোককে শীর্ষ পদে বসিয়েছি’ - বলেছিলেন ট্রাম্প।

আমেরিকান সাংবাদিক মাইকেল উলফের বই থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরমহল সম্পর্কে আরো যে সব বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়েছে তার মধ্যে এটি একটি।

ট্রাম্প অবশ্য এ বইকে 'মিথ্যায় ভর্তি' বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরব যান, সেখানে তিনি ১১ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র বিক্রির এক চুক্তি করেন।

সৌদিরা সাড়ে সাত কোটি ডলার খরচ করে ট্রাম্পের সম্মানে এক পার্টি দেয়, ট্রাম্পের পরিবারকে সোনার তৈরি গলফ কার্টে করে বেড়াতে নিয়ে যায়। তখনকার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফের (বইতে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে এমবিএন নামে) সাথে কুশনারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু উলফ লিখছেন, মোহাম্মদ বিন সালমান বা 'এমবিএস'-এর সাথেও কুশনারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এমবিএস-কে সে বছর মার্চ মাসে হোয়াইট হাউস সফরে যাবার আমন্ত্রণ জানানো হলো।

এমবিএস একে সৌদি রাজপরিবারের ভেতরের ক্ষমতার লড়াইয়ে তার নিজের পক্ষে ব্যবহার করেন। হোয়াইট হাউজ এতে কোন বাধাই দেয় নি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech