নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ১৬ বছরের পুরনো!

  

পিএনএস ডেস্ক: নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭ যাত্রী। বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানা না গেলেও বিমানটি ১৬ বছরের পুরনো বলে সূত্রের খবর।
এ বিষয়ে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের শাহজালাল আন্তর্জাতিক (রহ.) বিমানবন্দরের তথ্যকেন্দ্রে ফোন দেয়া হলে তা রিসিভ করা হয়নি। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিস আহমেদের সাথে যোগাযোগে করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। এড়িয়ে যাওয়ার কারণে বিমানটির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ বাংলাদেশি এক যাত্রী বলেছেন, বিমানটি রানওয়েতে নামতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একটি সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি কাঁপছিল। তারপরই হঠাৎ তাতে আগুন ধরে যায়।

এদিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) একটি দল নেপাল যাবে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট চালু হলে তদন্ত দল ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান। তিনি বলেন, তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইউএস বাংলার মোট আটটি বিমান আছে। এর মধ্যে চারটি ড্যাশ এইট, চারটি বোয়িং। এর মধ্যে একটি ড্যাশ এইট নষ্ট থাকার কারণে কিছুদিন যাবত হ্যাঙ্গারে পড়ে রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন গন্তব্য ছাড়াও কলকাতা, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, দোহা এবং মাসকট রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস বাংলা। এছাড়া এপ্রিলে চীনের গুয়াংঝু শহরে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যম আজকালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু ছিল। এর মধ্যে ৪০ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। বিমানটি অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র বীরেন্দ্র প্রসাদ শ্রেষ্ঠা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের সেনাসদস্যরা। এ ঘটনায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু রানওয়েতে নামার সময় তা পিছলে যায়। তারপর তা ধাক্কা মেরে বিমানবন্দরের কাছে একটি ফুটবল মাঠে গিয়ে পড়লে আগুন লেগে যায়। ‌‌

নেপাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ৭৮ জন ধারণে সক্ষম ওই বিমানে যাত্রীদের পাশাপাশি ৪ ক্রুসহ ৭১ জন আরোহী ছিল। ত্রিভূবন বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর জানান, অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এটি।

নেপালের বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক সঞ্জীব গৌতম বলেন, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এটা দক্ষিণ দিকে নামার কথা থাকলেও উত্তর দিক দিয়ে নামে।

তিনি বলেন, কারিগরী ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

আর্নিকো পান্ডে নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নেপালের সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকাকে বলেছেন, রানওয়েতে বাঁক নেয়ার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
আমি সংযোগসড়কে ছিলাম। দেখলাম বিমানটি টার্মিনালকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ দিকে দ্রুত বাঁক নিল। এরপরই রানওয়ে থেকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিশালাকারের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। খু্ব নিচে দিয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারের ওপর দিয়ে বিমানটিকে উড়তে দেখেছিলেন বলে জানান তিনি।

বিবিসির নেপালি সার্ভিস জানাচ্ছে, বিমানটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং করার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

ঢাকায় ইউএস বাংলা সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে এটি ছেড়ে যায়। তবে প্রাথমিকভাবে বিধ্বস্ত হবার কারণ জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech