‘মার্কিন সেনারা তুরস্কে অবস্থান করবে’

  

পিএনএস ডেস্ক : তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী বাকির বুযদাগ বলেছেন, ইন্জার্লিক বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের খবর ভিত্তিহীন। সেখানে মার্কিন সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমানের ওঠানামাও বন্ধ হয়নি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন তিনি। তুরস্কের ইন্জার্লিক বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে আমেরিকার পাঁচ হাজার সেনা ও ৩৯তম বিমান ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।

মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিল জার্নালের এ সংক্রান্ত খবর নাকচ করে তিনি বলেন, ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সেনা কমান্ডের মুখপাত্র জনি মাইকেলও এ ধরনের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে পত্রিকাটি অনুমানের ভিত্তিতে ওই খবর তৈরি করেছে।

গত রবিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একজন মার্কিন কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আমেরিকা ও তুরস্কের সম্পর্কে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্জার্লিক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিরিয়ায় তৎপর কুর্দি গেরিলা গোষ্ঠী ওয়াইপিজি'র প্রতি মার্কিন সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে তুরস্ক ও আমেরিকার সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তুরস্ক ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে মনে করে। ওই গোষ্ঠীকে ধ্বংসের কথা বলে সিরিয়ার আফরিনে তুর্কি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

তুর্কি সৈন্যবাহিনী আফরিনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে: এরদোগান
তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আফরিন প্রদেশ ঘিরে ফেলেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।


শুক্রবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে এরদোগান এই কথা জানান।

রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, ‘তুরস্কের সমর্থিত ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’র যোদ্ধারা এবং তুর্কি সৈন্যরা আফরিনের কেন্দ্র থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।’


তিনি বলেন, ‘এখন আফরিনে কেন্দ্র ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আমরা এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করছি।’


এরদোগান বলেন, ‘আমাদের সৈন্য কর্তৃক অবরুদ্ধ আফরিন শহরের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আমরা এখন অবশিষ্ট বাধাগুলি অপসারণ করছি।’


তবে, কুর্দি পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) সৈন্যদের একজন মুখপাত্র এরদোগানের এই দাবি অস্বীকার করেছেন।


নওরি মাহমুদ নামে এই মুখপাত্র বলেছেন, ‘এরদোগানের তুর্কি সেনাবাহিনী আফরিন থেকে এখনো ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে।’


আফরিনে হামলা ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ এর অংশ। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিরিয়া থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের তাড়িয়ে দেয়ার জন্য তুরস্ক সেখানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।


এরদোগান তার ভাষণে স্পষ্ঠভাবে জানান, আফরিন ঘিরে ফেলার মধ্যে তাদের সামরিক অপারেশন শেষ হবে না।


তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা আফরিনে আছি, আগামীকাল আমরা ম্যানবিজে পৌঁছাব। তার পরের দিন আমরা ইউফ্রেটিসের পূর্বাঞ্চল থেকে ইরাকি সীমান্ত পর্যন্ত সন্ত্রাসী মুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করব।’


তুরস্ক মনে করে যে ওয়াইপিজি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একটি বর্ধিত অংশ। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পিকেকে তুরস্কের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় কুর্দিশ অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্রোহ সৃষ্টি করে চলেছে।


গত ৬ ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ার বিদ্রোহী দল কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ‘অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক সেনাবাহিনী। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আফরিন থেকে কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) বিতাড়িত করতে স্থল ও আকাশ পথে অভিযান শুরু করে তুর্কি বাহিনী।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech