ঐক্যবদ্ধ তুরস্কের ইসলামিস্ট-সেক্যুলারিস্টদের জোট

  


পিএনএস ডেস্ক: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সরকার দেশ শাসনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির অন্যতম বৃহত্তম ইসলামিক পার্টি ‘সাডেট’ বা ফেলিসিটি পার্টির প্রধান টেমেলে কারামোলোয়াগ্লু।

তিনি দাবি করেন, দেশটির উচ্চ বেকারত্বের হার, বিস্তৃত বাণিজ্য ঘাটতি, বিশৃঙ্খল বিদেশি নীতি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভে স্থগিতাবস্থতা এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে জরুরি অবস্থা এরদোগানের ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে।

টেমেলে কারামোলোয়াগ্লু বলেন, মূলত এই কারণগুলির জন্যই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য তিনি কট্টর ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের সঙ্গেও জোট গঠন করেছেন; এক দশক আগে এমন একটি জোট যা অকল্পনীয় ছিল।

প্রেসিডেন্সিয়াল ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি আছে। এই নির্বাচন যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

যদিও এরদোগান এখনো তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন, তবে তার বিরোধীরাও এসব মতামত জরিপে বেশ ভালভাবেই এগিয়ে আছেন। সর্বশেষ একটি মতামত জরিপে বলা হয়েছে, এরদোগানের ক্ষমতাসীন জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) –পার্লামেন্টে তার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারেন।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস এবং বিরোধীদের গলা টিপে ধরার মতো একটি পরিবেশের পাশাপাশি দেশটির জনজীবনে ক্রমবর্ধমান ধার্মিকতা; যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা তার প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার মধ্যে রয়ে গেছে। এমন এক অবস্থার মধ্যেই এরদোগানকে হারাতে বিরোধীরা সুসংগঠিতভাবে একত্রিত হয়েছেন।

ইসলামপন্থীরা, যারা একদা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মতাদর্শিক সহযোগী ছিলেন, তারা তার ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে দুর্বল করতে বিরোধী জোটে যোগ দিয়েছেন।

টেমেলে কারামোলোয়াগ্লু দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এরদোগান বা তার সরকার অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি সহ যেসব নীতির অনুসরণ করছে, তা তুরস্ককে তার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম করবে না। তার অগ্রসর হওয়ার পদ্ধতি, কথা-বার্তা তুরস্কের অভ্যন্তরে বহুমেরুকরণের জন্য দায়ী। তিনি আইনের শাসনের প্রতি অত্যন্ত অশ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি।’

কারামোলোয়াগ্লু’র দলটির একসময় নেতৃত্বে ছিলেন তুরস্কের আধুনিক রাজনৈতিক ইসলামি আন্দোলনের জনক নেকমেতিন এরবাকান। তিনি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং এরদোগোনের একজন উপদেষ্টা ছিলেন।

এরদোগান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা, যারা আরো বেশি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, এই ইসলামি আন্দোলন থেকে বিভক্ত হয়ে একে পার্টি গঠন করেন; যেটি ২০০২ সাল থেকে তুরস্ক শাসন করছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নিজেকে ইসলামের একজন বৈশ্বিক রক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন এবং বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মুসলিমদের জন্য সংহতি আন্দোলনের একজন নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান জোরালো করতে চাচ্ছেন। তার এসব প্রচেষ্টা রক্ষণশীল ভোটারদের মন জয় করেছে।

কারামোলোয়াগ্লু বলেন, তার দলের ভিশন হচ্ছে তুরস্কের ইউকে-স্টাইলের ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ধর্ম এবং রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহবস্থান করবে, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি এবং সংলাপ ও কূটনীতির উপর ভিত্তি করে একটি বৈদেশিক নীতি, মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন।

তিনি একটি বিশেষ অবস্থার পক্ষে ইইউ সদস্যপদ লাভের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে চান, সেইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত জোট গঠনেরও পক্ষে মত দিয়েছেন।

নির্বাচনের অংশ নিতে তার ফেলিসিটি পার্টি ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী গোষ্ঠী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) সঙ্গে জোট গঠন করেছে। তাদের তিক্ত মতাদর্শগত ভিন্নতা সত্ত্বেও ইসলামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের এই জোট প্রেসিডেন্টে এরদোগান ও তার ক্ষমতাসীন দলকে হারাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

কারামোলোয়াগ্লু বলেন, ‘বৈদেশিক নীতি, অর্থনৈতিক নীতিতে আমাদের একই বোঝাপড়া নেই এটা সত্য। কিন্তু আমরা নির্দিষ্ট কিছু নীতির ক্ষেত্রে এক মত হয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে সরকার ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জরুরী অবস্থা তুলে নেওয়া ইত্যাদি।’

পিএনএস/আনোয়ার


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech