ক্রোয়েশিয়া হেরেও স্বপ্ন দেখতে শিখিয়ে গেল ফুটবলবিশ্বের

  


পিএনএস ডেস্ক: হেরেও যারা জিতে যায় তাদের কী বলে? তারা বীর হিসেবেই স্বীকৃতি পাবে। হ্যাঁ, ইতিহাস বলবে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফাইনালে হেরেই গিয়েছেন মদ্রিচ, রাকিতিচরা। তবে সেটুকুই তো সব নয়। যেন এই হেরে যাওয়ার ছাই থেকেই ফিনিক্সের উত্থান সম্ভব, ছোট ছোট দেশগুলিকে আজ সে স্বপ্নই দেখিয়ে গেল ক্রোয়েশিয়া।

ফিফার পক্ষ থেকে সোনার বল যখন হাতে তুলে দেয়া হলো ক্রোয়েশিয়ার ক্যাপ্টেন মদ্রিচের হাতে, তখন ধীর পায়ে তিনি এগিয়ে গেলেন ক্রোট প্রেসিডেন্টের দিকে। কী বললেন? বললেন, পারলাম না স্বপ্ন সত্যি করতে। ক্রোট প্রেসিডেন্ট বললেন, কে বলেছে! বরং তোমরা স্বপ্ন দেখতে শেখালে গোটা ফুটবলবিশ্বকে। গাল ছুঁয়ে আদর করে দিলেন তার দেশের অধিনায়কের। বাইরে তখন অল্প অল্প বৃষ্টি পড়ছে। প্রেসিডেন্টের চোখেও পানি। হ্যাঁ, এ সংলাপ কাল্পনিকই।

তবে এ কল্পনায় দোষ নেই। বস্তুত, এই বিশ্বকাপ যখন শুরু হয় তখন কেউ দূরতম স্বপ্নেও ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভাবেনি। ট্রফির দাবিদার ভাবা তো দূর কথা, গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারবে বলেও কেউ বিশ্বাস করেনি। কিন্তু যেখানে ভাবনার সমাপ্তি, সেখানে স্বপ্নের শুরু। ক্রোটরা সেই স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন গোড়া থেকেই। একে একে বড় দলরা আটকাল মদ্রিচদের কাছে। এমনকী মেসির আর্জেন্টিনাকেও মাটি ধরিয়ে দিয়েছিলেন তারাই। সেদিনই যেন ফুটবল বিশ্বে এক নতুন দেশের জন্ম হয়েছিল, যারা তারকা হয়ে উঠতে পারে।

একদিকে যখন খেলোয়াড়রা মাঠে নাছোড় জেদের পরিচয় দিচ্ছেন, তখন ফুটবল উন্মাদনা ছড়িয়ে দিচ্ছেন ক্রোট প্রেসিডেন্ট কিত্রাভিচ। ভিভিআইপি বক্সে দেশের জার্সি পরে বসার নিয়ম নেই। স্বয়ং ম্যারাডোনাও পরেন না। পুতিনও না। কিন্তু তিনি পারেন। নিয়ম ভাঙতে হবে বলে একবার বক্স ছেড়ে দেশের সমর্থকদের সঙ্গে বসেই খেলা দেখেছিলেন। এদিন অবশ্য পুতিনদের পাশে দেশের জার্সি পরেই বসেছিলেন।

কোত্রাভিচ যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, হতে পারে মাত্র ৪২ লাখ বাসিন্দা তার দেশের, কিন্তু ফুটবল আবেগ কোনো সংখ্যায় বাঁধা থাকে না। তাই বহু ১০০ কোটির দেশকেও তারা গোল দিতে পারেন। বস্তুত দিলেনও। দিলেন পরিকাঠামো, আবেগ, লড়াই আর দক্ষতায়। বুঝিয়ে দিলেন, ছোট-বড় আসল কথা নয়, হিসেব বদলে দিতে হয় সংগ্রামের ইতিবৃত্তে। তথাকথিত বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে সে ইতিহাসই রচনা করলেন ক্রোটরা। হয়তো বিশ্বকাপ জেতেনি তারা। তবে এরপর থেকে ক্রোটদের আর কেউ হিসেবের বাইরে রাখবেন না।

তবে এ শুধু ক্রোয়েশিয়ার একার অর্জন নয়। বরং ছোট ছোট সব দেশ, যারা বিশ্বকাপের স্বপ্ন বুকে লালন করে চলে, তাদেরও স্বপ্ন দেখাতে শেখাল ক্রোয়েশিয়া। যেন জানিয়ে দিল, পরাজয়ই শেষ কথা নয়। পরাজয় আর পরাভূত হওয়া এক জিনিস নয়। বরং এই হারের ধ্বংসস্তূপ থেকেই উড়ান দেয় নতুন স্বপ্ন। হয়তো সেভাবেই ফিরে আসবে ক্রোয়েশিয়া। হয়তো সেভাবেই উঠে আসবে অন্য কোনো দেশ। আজ যে তরুণী চোখের পানি ফেললেন, হয়তো অন্য কোনো দিন আনন্দাশ্রু হয়েই তা লেগে থাকবে সোনালি ট্রফির গায়ে। এই অপেক্ষাটুকুর নামই ভালোবাসা, এই ভালোবাসার নাম ফুটবল।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech