‘বেশি দেরি হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের উচিত ভুল থেকে বেরিয়ে আসা’ - আন্তর্জাতিক - Premier News Syndicate Limited (PNS)

‘বেশি দেরি হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের উচিত ভুল থেকে বেরিয়ে আসা’

  


পিএনএস ডেস্ক: ন্যাটোর দুই মিত্র দেশ তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্টের মধ্যৈ বৈরিতার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‍তুরস্কের ধাতু আমদানির উপর শুল্ক দ্বিগুণ করে দেয়ার একদিন পর শনিবার ‍তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, তুরস্ককে পথে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়।

দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্ক খারাপ হয়ে পড়ে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- সিরিয়াতে দুই দেশের স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্ব, ‍তুরস্কের রাশিয়া থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ‍তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান ধর্ম যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের চলমান বিচার যিনি ‍তুরস্কের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ইত্যাদি।

‘আপনি হুমকির ভাষা ব্যবহার করে এই জাতিকে পথে আনতে পারবেন না।’ কৃষ্ণ সাগরের তীরে ইউনি নামক তুর্কি শহরে এরদোগান তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

‘আমি আবারো যুক্তরাষ্ট্রে যারা রয়েছেন তাদের প্রতি আহ্বান করে বলতে চাই, এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আপনার ন্যাটোতে আপনাদের কৌশলগত সহযোগীর চাইতেও একজন যাজককে বেশি মূল্য দিচ্ছেন।’-তিনি এমনটি বলেন।

‍তুরস্কের মুদ্রা লিরা যা এই বছর ইতিমধ্যেই তার এক-তৃতীয়াংশ মূল্য হারিয়েছে যা এরদোগানের বৃহৎভাবে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে ভীতি সঞ্চার করেছে। ‍তুরস্কের মুদ্রা লিরার মান যা ২০০১ সালের পরে এই প্রথম ১৮শতাংশের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার জন্য এরদোগানের জামাতা ‍তুরস্কের অর্থমন্ত্রী বেরাত আলবায়ারাক শুক্রবার একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার উন্মোচন করেছেন।

শনিবার এরদোগান পুনরায় তুর্কিদের লিরার প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাবার জন্য আহ্বান জানান, যা তার ভাষায় ‘স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ।’

তিনি আরো বলেন-‘যদি আপনাদের বালিশের নিছে কোনো ডলার, ইউরো চাপা পড়ে থাকে তবে এগুলোকে বের করে ব্যাংকে দিয়ে এর পরিবর্তে তুর্কি লিরা নিন এবং এভাবে আমরা আমাদের এই স্বাধীনাতার জন্য যুদ্ধে জয়লাভ করবো। কারণ এটি হচ্ছে সেই ভাষা যাতে তারা বুঝতে পারে।’

পরিবর্তনশীল অঞ্চল
একটি গুরত্বপূর্ণ বাজারে, ‍তুরস্কের সীমান্ত রয়েছে ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ার সাথে এবং দেশটি কয়েক দশক ধরে পশ্চিমাদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। উদীয়মান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ইতিমধ্যেই এই অঞ্চল অস্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।

এরদোগান লিরার মান কমে যাওয়াকে একটি যুদ্ধের মত মনে করছেন এবং তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলেন, দুই বছর আগে যারা ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে সহযোগীতা করেছিল তারাই এরদোগানের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভের পর থেকে নতুন পন্থায় আক্রমণ শুরু করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আঙ্কারার বিকল্প মিত্র রয়েছে বলে এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দেন।

‘অনেক বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের উচিত এমন ভুল পদক্ষেপ নেয়া থেকে বের হয়ে আসা, অন্যথা দুই দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে যাতে আঙ্কারা বিকল্প মিত্র খুঁজতে বাধ্য না হয়। এ রকম অসম্মান চলতে থাকলে আমরা বাধ্য হব নতুন মিত্রতা খুঁজে নিতে।’- এরদোগান বলেন।

‍তুরস্কের সরকার পন্থি একটি পত্রিকা দৈনিক সাবাহতে এরদোগানের একজন মুখপাত্র ইব্রাহীম কালিন ওয়াশিংটন পুরোপুরিভাবেই মিত্র হিসাবে আঙ্কারাকে হারিয়ে ফেলতে পারে হুমকি দিয়ে বলেন, কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধানের পথ ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে ভেস্তে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরিভাবেই তুরস্ককে মিত্র হিসাবে হারানোর ঝুঁকি নিচ্ছে। ‍তুরস্কের পুরো জাতি যুক্তরাষ্ট্রের এরকম নীতির বিরুদ্ধে এবং ‍তুরস্কের নিরাপত্তার পক্ষে রয়েছে। হুমকি, নিষেধাজ্ঞা এবং অপমানজনক আচরণ ‍তুরস্কের বিরুদ্ধে কোনো কাজে দিবে না।’

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech