`রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সুচি’র আচরণ জঘন্য'

  

পিএনএস ডেস্ক: রোহিঙ্গাদের সঙ্গে অং সান সুচি যে আচরণ করেছেন তা জঘন্য বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

ব্লুমবার্গ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চীন সরকারের অভিযানেরও সমালোচনা করেন তিনি।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “রোহিঙ্গা নির্যাতনের দিনগুলোতে সুচির ভূমিকা দেখে আমি মর্মাহত হয়েছি। এক সময় বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিষ্টান-সবাই তাকে সমর্থন দিয়েছিল। তাহলে কিভাবে তিনি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ব্যাপারে নীরব থাকতে পারলেন?”

চীনে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর চীনের নির্যাতনের বিষয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “মালয়েশিয়া চীনের সঙ্গে উইঘুর ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে চীন বলেছে এটি তাদের অভ্যন্তরীন ইস্যু।”

তিনি বলেন, আমি আশা করি ভবিষ্যতে যথাযত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারবো।

মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদের কাছ থেকে এক বা দুই বছরের মধ্যে ক্ষমতা বুঝে নেবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। এই ব্যাপারে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মত ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখের বেশি।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং ৭ হাজার ৮০০ শিশু, যাদের বাবা ও মা উভয়েই নিখোঁজ।

এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর অনুসন্ধানে গণহত্যারপ্রমানও মিলেছে। তাঁরাবলছে, বর্মী সৈন্যরা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ইন দিন গ্রামে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো। এই গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার বিষয়ে তাদের দুই সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে সেখানে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে বলা হয়, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দু’জনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech