‘মিয়ানমার বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপের অধিকার নেই’

  



পিএনএস ডেস্ক: মিয়ানমারের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তার দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করার অধিকার জাতিসংঘের নেই। জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন রোহিঙ্গা ‘গণহত্যার’ জন্য মিয়ানমারের তাকেসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের সুপারিশ করার এক সপ্তাহের মাথায় তিনি এই মন্তব্য করলেন।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রাখাইনের ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরুর পর এই প্রথম জেনারেল মিন অং হ্লাইং মিয়ানমার সেনাদের নিয়ন্ত্রিত একটি পত্রিকায় প্রকাশ্যে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন।

মিয়ানমারে রাজনৈতিক থেকে সেনাদের সরে যাওয়ার জন্য যে জাতিসংঘ যে আহ্বান জানিয়েছে তার সমালোচনার করেছেন মিন অং হ্লাইং। ২০১১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা আসলেও মিয়ানমারের রাজনীতিতে সেনারা অত্যন্ত প্রভাবশালী।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা মায়াবতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কোনো দেশ, গোষ্ঠী বা সংস্থার অন্য দেশের ওপর হস্তক্ষেপ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।’

‘অভ্যন্তরীণ বিষয় কথা বলা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।’
তিনি বলেন, বিশ্বের একেক দেশের গণতন্ত্র চর্চার ধরন একেক রকম। একটি দেশ সেই ধরনের গণতন্ত্রের চর্চা করে, যা তার জন্য উপযুক্ত। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারও স্বাধীন একটি পররাষ্ট্র নীতির চর্চা করে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ একটি অবস্থান বজায় রেখে চলে।

‘তাছাড়া জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার জাতিসংঘের যেসব চুক্তিতে সই করেছে, সেগুলো প্রতিপালন করে। প্রতিটি দেশ যেহেতু নিজের মত করে আলাদা মানদণ্ড ও আদর্শ নির্ধারণ করে, সেহেতু তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বা তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কোনো দেশ, কোনো সংস্থা বা কোনো গোষ্ঠীর নেই।’

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে গেলে যেমন ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, একইভাবে কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও একই ফল হতে পারে বলে সতর্ক করেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।

২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী দমনের নামে দেশটির সেনাবাহিনী সহিংস অভিযান শুরু করে। এতে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যার অভিযোগ ওঠে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘ। সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঠাঁই নেয়।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech