তিস্তায় মমতা কবে রাজি হবেন কেউ জানে না!

  


পিএনএস ডেস্ক: খুব নাটকীয় কিছু না হলে বর্তমান সরকারের অবশিষ্ট সময়ে ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সম্মতি ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ওই চুক্তি করবে না। চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে নাগাদ রাজি হবেন, তাও কেউ জানে না।

নয়াদিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিস্তা এখন ভারতে পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক ইস্যু। মমতার যুক্তি হলো তিস্তা চুক্তি হলে তাঁর রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্ভাব্য এ ক্ষতি এড়াতেই তিনি চুক্তির ব্যাপারে সম্মত নন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মমতার দর-কষাকষির অন্যতম ইস্যু তিস্তা। আবার এ তিস্তা চুক্তিতে বাগড়া দিয়েই মমতা প্রমাণ করছেন ভারতের বৈদেশিক ইস্যুতেও তাঁর মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া আগামী এপ্রিল-মে মাসের দিকে ভারতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নরেন্দ্র মোদির বিজেপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠছে। মোদি সরকার নির্বাচনের প্রাক্কালে তিস্তা নিয়ে মমতার সঙ্গে নতুন করে বিরোধে যেতে চাইবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারেও দলটি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

নয়াদিল্লির একটি সূত্র বলছে, তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক পর্যায়ে নেই। তিস্তা চুক্তি সইয়ের জন্য ভালো সময় হতে পারে ভারতে পরবর্তী সরকারের প্রথম বছর। নতুন সরকারের ওই সময়ে জোরালো জনপ্রিয়তা থাকে এবং বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ২০১৪ সালে ২৬ মে নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠন করে সবার সম্মতির ভিত্তিতে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সব বাধা দূর করে পরের বছর জুলাই মাসে ঢাকা সফর করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং গত সোমবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন, গণতন্ত্রে জনগণকে বোঝাতে সময় প্রয়োজন হয়। তিনি মনে করেন, এ নিয়ে অগ্রগতি হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বিরোধী মনোভাব নিয়ে আছেন। যদি তাঁর বিরোধী মনোভাব না থাকত, তাহলে হয়তো তিস্তা চুক্তি হয়ে যেত। ভি কে সিং বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।’

তিস্তা চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক বলেন, তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মাঝেমধ্যে এমন তথ্য দেখতে পান। তবে বাস্তবে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গেই আটকে আছে। বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই করতে সক্ষম হলেও তিস্তায় বাধা কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশির দশকে যা সহজে সম্ভব ছিল, নব্বইয়ের দশকে তা জটিল হয়ে পড়েছিল। আর নব্বইয়ের দশকে যা জটিল ছিল, এখন তা আরো জটিল। তবে তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিষয়ে ভারত পুরোপুরি অবগত। ভারতে অভ্যন্তরীণ জটিলতার বিষয়টিও বাংলাদেশ বুঝতে পারে বলে নয়াদিল্লি মনে করে।

২০১১ সালে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও মমতার আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রকে দিয়ে তিস্তার পানির প্রবাহ নিয়ে সমীক্ষা চালালেও এর ফলাফল কখনো প্রকাশ করেননি। গত বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই মোদি বলেছিলেন, শুধু তাঁর (মোদি) ও শেখ হাসিনার সরকারই তিস্তা ইস্যু সমাধান করতে পারে।

ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা-নয়াদিল্লি সুসম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিস্তা চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক মনোভাব আছে। তবে এ ক্ষেত্রে মমতার সম্মতি অপরিহার্য।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech