‘নেতারা ভুল পথে হাঁটছেন, ইসলামহীন হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস অনিবার্য’

  


পিএনএস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরের রক্সবারি এলাকার ‘Mosque Praise Allah’(আল্লাহ মহান) নামক মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহ ফারুক ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জুম্মার খুতবায় বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একটি ভুল কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করেন। তারা ভুল পথে হাঁটা মানুষদের অনুসরণ করেন, কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা যা নিষিদ্ধ করেছেন তারা সেগুলোকে বৈধতা দিয়েছেন। তারা সমকামিতা বৈধতা দিয়েছেন, সম-লিঙ্গের মধ্যকার বিবাহকে বৈধতা দিয়েছেন, তারা মারিজুয়ানা, এলকোহল, পতিতা বৃত্তি ইত্যাদিকে বৈধ করেছেন।’

এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হিলারি ক্লিনটনের সাথে দেখা করে ‘সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছার ওপর নিজেকে সমর্পণ করার জন্য’ এবং মুসলিম হয়ে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণপত্র দিয়েছেন।

বোস্টনের ফাইন আর্টস মিউজিয়ামের সম্মুখে ‘Appeal to the Great Spirit’ নামক ঘোড়ার মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সমবেত জনতার উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘এই ভূমি ভীরুদের দ্বারা শাসিত এবং এটি দাসদের একটি দেশ। একমাত্র ইসলাম ধর্মই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুখকর ভবিষ্যৎ নিয়ে আসতে সক্ষম। ইসলামহীন হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু ঘটবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার কাছে সমর্পিত হওয়া ছাড়া এই দেশ ব্যর্থ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন এবং এই জাতির দরজাসমূহ খুলে দিন।’

নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ধর্মগুরু ফারুক তার বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে গেছেন এবং তিনি বোস্টনের মসজিদে বিতর্কিত খুতবা দিয়ে সন্ত্রাসীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলেও অনেকের অভিযোগ।

‘Praising of Allah’ নামক মসজিদটির নিয়মিত মুসল্লি উসামা রাহিম নামের একজনকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে বোস্টনের পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। তবে ফারুক ওসামা রাহিমকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করে তার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ‘পুলিশের এ ধরনের কাজ তাদের বেপরোয়া এবং ভয়ঙ্কর মনোভাবের পরিচয় দেয়।’

‘Islamic Society of Boston Cultural Center (ISBCC)’ কর্তৃক আয়োজিত ক্যামব্রিজ মসজিদে ফারুক বিভিন্ন সময় জুম্মার খুতবা দিয়ে থাকেন। তবে বোস্টন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বোস্টনে বোমা হামলাকারীদের একজন তামেরলান এবং আফিয়া সিদ্দিকী নামের একজন যিনি নিউইয়র্ক শহরে রাসায়নিক বোমা হামলার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন এদের সবাই ফারুকের অনুসারী ছিল। এদের মধ্যে আফিয়া সিদ্দিকী এবং তারেক মেহানা নামের দুজনকে আল-কায়দার সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকার দায়ে ২০১২ সালে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

ফারুক আফিয়া সিদ্দিকী এবং তারেক মেহানাকে মুক্ত করার জন্য জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বোস্টনের মুসলিমদের আফিয়া সিদ্দিকীকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আফিয়াকে শেষ করে দেয়া সম্পন্ন হলে তারা আপনাদের বাড়িতে পৌঁছাবে।’ তার এই আহ্বানের পরে তাকে নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ফারুক এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে দাবী করেছিলেন যে, আইএসআই ইসলামি মূল্যবোধ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো দল নয় বরং এ দলটি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট একটি বিপথগামী দল। ইউটিউবে ফারুকের এধরনের অনেক বক্তৃতা শুনতে পাওয়া যায়। সূত্রঃ জেএনএস ডট ওরগ।

পিএনএস/আনোয়ার


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech