কলকাতায় উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক

  


পিএনএস ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। রাজ্য সরকার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে আনে নিরাপদ স্থানে। বিপর্যয় মোকাবিলা টিম ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়। বুলবুলের আঘাতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কলকাতায় গাছ চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতাসহ সাতটি জেলার নিচু অঞ্চলের বহু কাঁচা ও আধা পাকা ঘর ধসে গেছে। ফসলের খেত নষ্ট হয়েছে। বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুলবুলের কারণে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এখন চলাচল স্বাভাবিক।

গতকাল শনিবার কলকাতার আলীপুরের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বুলবুল প্রথম আঘাত হানে পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বকখালীতে। এরপর সাগর দ্বীপকে। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দেয় সুন্দরবনের ধানচি–সংলগ্ন জঙ্গলের ওপর। বুলবুলের এই তাণ্ডব চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এ সময় বুলবুলের সর্বাধিক গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। বুলবুলের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। পূর্ব মেদিনীপুরে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র দীঘা। বুলবুলের আঘাত দীঘা, মন্দার মণি, তাজপুর ও শঙ্করপুরে জলোচ্ছ্বাস হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালী, সাগরদ্বীপ, নামখানাসহ পুরো সুন্দরবনে আঘাত হানে বুলবুল। নামখানায় ভেঙে পড়ে দুটি জেটি।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শক্তি কমে আজ সকালে বুলবুল অবস্থান করছিল কলকাতা থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, কলকাতাসহ রাজ্যের সাতটি জেলায় বুলবুলের প্রভাব আজও থাকবে। জেলাগুলো হলো কলকাতাসহ উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়া। আজও সমুদ্র উত্তাল থাকবে। বইবে ঝোড়ো হাওয়া। দীঘা, মন্দার মণি, তাজপুর, বকখালীসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। বকখালী এবং দীঘায় আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech