পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যকে ঘিরে সরগরম রাজনীতি

  

পিএনএস ডেস্ক : স্বামী বিবেকানন্দ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবির সামনে দাঁড়ালে আমিও এক অদ্ভুত শক্তি পাই। তাই আপনারাও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ছবির সামনে প্রতিদিন দুই মিনিট দাঁড়ান, জীবনীশক্তি পাবেন।

সরকারি অনুষ্ঠান থেকে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাসনাবাদের ‘ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার সন্ধ্যায় হাসনাবাদের ভেবিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ত্রাণ বিলির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রীর বন্দনা শুরু করেন হাসনাবাদের বিডিও।

মন্ডপের মুখ্যমন্ত্রীর এই ছবির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে মুখ্যমন্ত্রীর এই যে ছবি দেখছেন, রোজ সকাল বেলা দুই মিনিট ছবির সামনে দাঁড়ান, আপনি একটা অদ্ভুত শক্তি পাবেন। আমি নিজেও দুইটি ছবির সামনে দাঁড়াই। একটা ছবি স্বামী বিবেকানন্দের, আর অন্যটি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর। এক অদ্ভুত জীবনশক্তি পেয়ে নিজেদেরকে উজ্জীবিত করে ফেলি। যেটাকে বলে রিচার্জ করা।

এ প্রসঙ্গে তার যুক্তি, প্রত্যেকের জীবনে কেউ না কেউ আদর্শ থাকেন। আমি একজন প্রশাসনিক প্রধানকে আদর্শ করেছি। এতে সমস্যার কী রয়েছে?

একজন সরকারি কর্মকর্তার মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর গুন গাওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল সিপিআইএম’এর বক্তব্য সরকারি কর্মকর্তারাও এখন তৃণমূলের দাসে পরিণত হয়েছেন। আসলে এটা না বললে তাদের চাকরি থাকবে না।

বিজেপি রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, একজন জ্যৈষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন! বাংলার সর্বত্রই প্রশাসনিক স্তরে পক্ষপাতিত্বের মনোভাব গ্রাস করেছে। নিজের গদি বাঁচাতে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের কাছে মারাত্মক চাপে রয়েছেন।

তবে এবারই প্রথম নয়, গত আগস্টেই মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল এক ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তাকে। তা নিয়েও সেসময় বিতর্ক কম হয়নি।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech