তিন দেশ থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন

  

পিএনএস ডেস্ক : অনুমোদন পেল ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন বিল। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশোধিত এই বিল অনুমোদন পায়। সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনেই বিলটি পাস করানোর চেষ্টা করবে ভারতের শাসক গোষ্ঠী ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ। এই বিল পাস হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা অমুসলমানদের নাগরিকত্ব দেওয়া যাবে।

সারা ভারতে নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তৈরির মধ্য দিয়ে ‘বিদেশি বাছাইয়ের’ পাশাপাশি প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে ভারতে চলে আসা ‘অত্যাচারিত’ হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ও পার্সিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপি অনেক দিন ধরেই দিয়ে আসছে। এই বিল আইনে রূপান্তরিত হলে শাসক দলের সেই অঙ্গীকার পূর্ণ হবে।

নাগরিকত্ব সংশোধন বিলে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তিন প্রতিবেশী দেশের অত্যাচারিত অমুসলমানরা চাইলে ৬ বছর বসবাসের পর এই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী হবেন। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ১১ বছর বসবাস করার নিয়ম বাধ্যতামূলক। সেই সময়সীমা কমিয়ে নতুন বিলে ৬ বছর করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির প্রথমবারের শাসনে বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যসভায় শাসক দলের গরিষ্ঠতা না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। লোকসভার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পুরোনো বিল বাতিল হয়ে যায়। সেই বিল নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় প্রবল বিরোধিতা দেখা যায়। বিরোধিতায় নামে অন্য বিরোধী দলগুলোও। তাদের বক্তব্য, এই বিল সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ভারতীয় সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ ও বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরোনো বিলে বেশ কিছু সংশোধন এনেছেন। সে জন্য সম্প্রতি তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের উপজাতি–অধ্যুষিত যেসব অঞ্চল সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত, সেই এলাকাগুলো এই বিলের আওতায় আসবে না। একইভাবে অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ডও এই বিলের আওতার বাইরে থাকবে, যেহেতু ওই তিন রাজ্যে ‘ইনার লাইন পারমিট’প্রথা চালু রয়েছে। তিন প্রতিবেশী দেশের অমুসলমান নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও তাঁরা এই সংরক্ষিত রাজ্যগুলোয় বসবাস করতে পারবেন না। সরকারি সূত্রের মতে, এর ফলে ওই রাজ্যগুলোর জাতিগত বৈশিষ্ট্য অটুট থাকবে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৯ ডিসেম্বর বিলটি সংসদে পেশ করা হবে। সংসদীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা ১৩ ডিসেম্বর।

লোকসভায় এই বিল পাস করা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। বিজেপির একারই সেই গরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু রাজ্যসভায় তা নেই। তা সত্ত্বেও তিন তালাক বা কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের মতো বিতর্কিত বিল বিজেপি পাস করিয়েছে। নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় নেমেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, এনসিপি ও বামপন্থী দলগুলো। কিন্তু বিরোধীদের মধ্যে কারা বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবে এবং কারা বিরোধিতা করে ওয়াক আউট করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আসামে এনআরসি হয়েছে। তাতে ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ওই ১৯ লাখের মধ্যে হিন্দুর সংখ্যা ১২ লাখের মতো। এ কারণে আসামের বিজেপিও ওই তালিকাকে বর্জন করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সারা দেশেই ২০২৪ সালের মধ্যে এনআরসি চূড়ান্ত করা হবে। তবে এর আগে সরকার নাগরিকত্ব বিল সংশোধন করতে চাইছে, যাতে যেসব হিন্দু নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলাতে পারবেন না, তাঁরা সংশোধিত আইনে নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন।

এনআরসি এবং নতুন নাগরিকত্ব আইন বাংলাদেশের পক্ষে দুশ্চিন্তার কারণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় এই নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা ভারতীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। ভারতের সরকারি বক্তব্য, এনআরসি সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিড়ম্বনা বাড়তে পারে বলে নানা মহলের আশঙ্কা।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech