‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন দম্ভে আঘাত করেছে’

  

পিএনএস ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ ৮ বছর পর আজ তেহরানে জুমার নামাজের ইমামতি করেছেন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) তিনি নামাজের আগে দেওয়া খুতবায় বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তা আমেরিকার সম্মান-মর্যাদায় আঘাত হেনেছে।

খামেনি বলেন, আমেরিকা নিজেকে পরাশক্তি দাবি করে দম্ভ দেখায় আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সেই দম্ভে আঘাত করেছে।

সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, তারা এখন বলছে আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে, কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল আসাদে আইআরজিসি’র হামলার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, এই দু’টি ঘটনাতেই শিক্ষণীয় দিক রয়েছে। এক সপ্তাহব্যাপী এসব বিশাল ঘটনাকে আড়াল করতেই তিন ইউরোপীয় দেশ ইরানের পরমাণু ইস্যুকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আরও বলেন, বাস্তবিক অর্থে ইউরোপীয় দেশগুলো হচ্ছে আমেরিকার সেবক। তারা এখন ইরানকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ইউরোপতো দূরের কথা তাদের খোদ প্রভু অর্থাৎ আমেরিকা এই কাজে সফল হতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয়রা ইরানের সঙ্গে যে সংলাপে বসে তাতেও থাকে প্রতারণা। ভদ্রলোকের বেশধারী যেসব ব্যক্তি আলোচনার টেবিলে বসেন তারাও আসলে বাগদাদ বিমান বন্দরে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। তারা কেবল তাদের বেশভূষা পরিবর্তন করেছেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার খুতবার একটা অংশে আরবি ভাষায় কিছু বার্তা দেন। তিনি বলেন, গোটা অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্ভর করছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্তি এবং বিজাতীয় ইহুদিবাদীদের আধিপত্য থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তির ওপর। এই অঞ্চলের মানুষের উদ্যোগে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।

তিনি এই অঞ্চলের সব মুসলমানের উদ্দেশে বলেন, মুলমানদের মন ও বিবেককে জাগ্রত করতে হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। সবাই জেনে রাখুন সুচিন্তা, সুপরিকল্পনা, দৃঢ়তা এবং সাহসিকতা হচ্ছে মুক্তির একমাত্র পথ।

সর্বোচ্চ নেতা জুমার নামাজ পড়াবেন এ তথ্য জানতে পেরে আজ বিপুল সংখ্যক মানুষ ইমাম খোমেনি (র:) মুসাল্লায় উপস্থিত হন। জুমার নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের হাতে হাতে ইরানি জেনারেল সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মোহানদেসের ছবি শোভা পাচ্ছিল।

মুসল্লিরা আমেরিকা ও ইসরাইলের পতাকায় আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ‘ইসরাইল ধ্বংস হোক, আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিয়েছেন। তথ্য সূত্র- ইরানি গণমাধ্যম।

পিএনএস/ হাফিজ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech