দিল্লিতে মসজিদে আগুন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

  

পিএনএস ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান সহিংসতার মধ্যে একটি মসজিদে আগুন দেয়া হয়েছে। আর নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩।

ভারতীয় ওয়েবসাইট দি ওয়্যারের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার দাঙ্গাবাজেরা 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিয়ে দিল্লির অশোক নগরের ওই মসজিদটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, দাঙ্গাবাজেরা ওই এলাকার দোকানপাটেও অগ্নিসংযোগ করেছে।

পুলিশ ওই এলাকায় বড় সংখ্যায় জড়ো হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে এখনো সহিংসতার আগুনে জ্বলছে দেশটির দিল্লি। রাজধানীর উত্তর-পূর্ব এলাকায় সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩, জিটিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। প্রায় ১৫০ জন জখম অবস্থায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর ১৪৪ ধারা জারি করা সত্ত্বেও চাঁদবাগ এলাকায় নতুন করে আগুন লাগানোর এবং পাথর ছোড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার সিএএ-বিরোধী ধর্নার কেন্দ্রস্থল জাফরাবাদ রোড খালি করে দেয় দিল্লি পুলিশ।

মৃতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিল্লির কিছু এলাকায় জারি করা হয় দেখামাত্র গুলি করার বা ‘শুট অ্যাট সাইট’-এর নির্দেশ। পরিস্থিতি বুঝে ওই এলাকায় বুধবার দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। বন্ধ থাকবে এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুলও।

সোমবারের পর মঙ্গলবারও সারা দিন অশান্ত থাকে রাজধানী। উত্তর-পূর্ব দিল্লির খাজুরি খাস এলাকায়ও এদিন নতুন করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকায় পুলিশ ও র্যারফ মোতায়েন করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা, চাঁদবাগ, করওয়াল নগর এলাকায় দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাঠি-রড হাতে রাস্তায় জমায়েত জনতার।

মৌজপুরে এদিন একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে, সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে এমনটাই খবর। এ ঘটনায় অকুস্থলে যায় দমকলের একটি গাড়ি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে বেগ পেতে হয় নিরাপত্তা বাহিনীকে। এলাকায় পাথর ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, সোমবার পাথরের ঘায়েই মৃত্যু হয়েছে দিল্লি পুলিশের এক কনস্টেবলের। নিরাপত্তাকর্মীদের থেকে বিক্ষোভকর্মীদের সংখ্যাই বেশি। সংবাদকর্মীদেরও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্তপ্ত এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রোর পিঙ্ক লাইনে ৫টি স্টেশন বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লিবাসীর কাছে শান্তির আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ে সোমবারই দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অজয় ভাল্লা-সহ অন্যরাও। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও দিল্লির উপরাজ্যপাল। এই বৈঠকেই দিল্লির সীমানা সিল করে দেয়ার দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন