করোনাভাইরাস: চরম বিপাকে পড়েছে ভারতের খেঁটে খাওয়া মানুষ

  


পিএনএস ডেস্ক: ভারতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চরম বিপাকে পড়েছে খেঁটে খাওয়া মানুষ। তিন সপ্তাহের নজিরবিহীন লকডাউন ঘোষিত হওয়ার পর দেশের ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকরা নিজের গ্রামের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। লকডাউনে তাদের কাজকর্ম থেমে গেছে, সেই সাথে বন্ধ হয়েছে ট্রেন ও বাস চলাচল। এরই মধ্যে তারা অনেকেই শত শত মাইল পথ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে শুরু করেছেন।

দিল্লি থেকে অনেকেই রওনা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশ বা রাজস্থানের দিকে, আবার গুজরাট থেকেও কেউ টানা দুদিন বা তিনদিন একনাগাড়ে হেঁটে ফিরে আসছেন রাজস্থানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনেক মহাসড়কে এখন ব্যাগ-সুটকেস মাথায় দল ধরে ধরে বহু মানুষকে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে।

রাজস্থানের ঢোলপুরের বাসিন্দা কিষেণলাল দিল্লির একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। দোকান বন্ধ থাকায় তিনি টাকাও পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় কয়েকশো মাইল দূরের ঢোলপুরের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। এই যাত্রায় তার সঙ্গী রাকেশ জানান, এখানে বসে থাকলে কেউ তো আর মাইনে দেবে না – দেখি গাঁয়ে গিয়ে কিছু কাজ পাই কি না। অন্তত ক্ষেতে গম তো কাটতে পারব।

রাজস্থানের সুরথগড়ের একটি কোল্ডস্টোরেজে কাজ করতে বিহারের চম্পারণের প্রায় ৫০ কর্মী। কাজ হারিয়ে দলটি আবার প্রায় বারোশা মাইল দূরে তাদের গ্রামের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। প্রচন্ড গরমে, ক্ষুধা আর পিপাসায় এর মধ্যেই তাদের দশা রীতিমতো কাহিল। ওদিকে দিল্লি থেকে বাচ্চা পরিবার সহ খেঁটে খাওয়া মানুষ যাচ্ছে আলিগড়। সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের বউটি বলছিল, পৌঁছে আমরা নিশ্চয় যাব – হ্যাঁ, সময় লাগবে, কষ্টও হবে, দুটো পুরো দিন হয়তো লেগে যাবে। তারপরও শনিবার ভোরের দিকে গাঁয়ে চলে যেতে পারব বলে আশা করছি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলছেন, এই শ্রমিকদের রুটিরুজির ব্যবস্থা করতে সরকার বিশাল অঙ্কের অর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আসছে। এই অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষের জন্য মোট ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি রুপির সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঠিক কতটা সময় লাগবে সে সম্পর্কে কোন ধারণা পাওয়া যায়নি। আর এ কারণেই তারা নেমেছেন রাজস্থান থেকে বিহার, কিংবা পাঞ্জাব থেকে উত্তরপ্রদেশের পথে সুদীর্ঘ পদযাত্রায়! সূত্র: বিবিসি

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন