মাত্র ১০০ ঘণ্টায় ব্রিদিং মেশিন তৈরি, করোনা রোগীদের জন্য দারুণ সুখবর!

  

পিএনএস ডেস্ক : কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) নামে পরিচিত এই ডিভাইসটি করোনভাইরাস রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করার জন্য ইতালি এবং চীনের হাসপাতালগুলিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। অক্সিজেনের মাস্ক এবং পুরো ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয় এই ডিভাইস।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের (ইউসিএলএইচ) একটি দল মার্সিডিজ ফর্মুলা ওয়ান প্রযুক্তির সাথে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটিয়ে বিদ্যমান সিপিএপিকে মানিয়ে নিতে ও উন্নত করতে কাজ করেছে।

ইউসিএল জানিয়েছে, এখন মেডিসিনস এবং হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) দ্বারা ডিভাইসটি ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোজিত সিপিএপি ডিভাইসটি অনুমদিত হলে মাত্র ১০০ ঘণ্টার মধ্যে উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ইউসিএল। প্রাথমিকভাবে প্রদর্শিত ডিভাইসটি এ সময়ের মধ্যেই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য এখন ইউসিএলএইচ ১০০ ডিভাইস ব্রিটেনের হাসপাতালগুলিতে সরবরাহ করবে। এরপরে ইউরোপের আশেপাশের হাসপাতালগুলিতে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য দ্রুত এটা সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতালি থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, সিপিএপি দেওয়া রোগীদের প্রায় অর্ধেকই যন্ত্রণাদায়ক যান্ত্রিক ভেন্টিলেশনের প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে চলেছেন।

ইউসিএলএইচ-এর ক্রিটিক্যাল কেয়ার কনসালটেন্ট অধ্যাপক মেরভিন সিঙ্গার বলেছেন, এই ডিভাইসগুলি অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে। সীমাবদ্ধ ভেন্টিলেটর সম্পদকে কেবলমাত্র মারাত্মক অসুস্থদের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ নিশ্চিত হবে সিপিএপি ব্যবহারের মাধ্যমে।'

মেরভিন আরও বলেন,'যদিও প্রথমে তাদের ডিভাইস ইউসিএলএইচে পরীক্ষা করা হবে। আমরা আশা করি এই ডিভাইস নিবিড় পরিচর্যা কর্মী এবং শয্যাগুলির চাহিদা কমাবে। পাশাপাশি রোগীদের যন্ত্রণাদায়ক ভেন্টিলেটর ব্যবহার থেকে রক্ষা করবে। যুক্তরাজ্য জুড়ে হাসপাতালেগুলিতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটা সত্যিকারের পরিবর্তন আনবে।'

ইউসিএলের ভাইস-প্রোভোস্ট প্রফেসর ডেভিড লোমাস বলেছেন, এই অগ্রগতিটি অনেকের জীবন বাঁচাতে এবং আমাদের ফ্রন্টলাইন এনএইচএস কর্মীদের রোগীদের ভেন্টিলেটর থেকে দূরে রাখার সুযোগ করে দেবে। একেবারে সরলভাবে, প্রথম বৈঠক থেকে মাত্র ১০ দিনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া এটা অবশ্যই দুর্দান্ত এক অর্জন।'

সিপিএপি মেশিনগুলি এনএইচএস নিয়মিতভাবে হাসপাতালে বা বাড়িতে শ্বাসকষ্টের অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে এটির সরবরাহ কম রয়েছে বলে জানা যায়।

এটি অবিচ্ছিন্ন হারে রোগীর মুখ ও নাকের মধ্যে অক্সিজেন এবং বাতাসের মিশ্রণ পুশ করার মাধ্যমে কাজ করে। যেটা ফুসফুসে প্রবেশ করে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখে।

ইউসিএল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ কেয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক প্রফেসর রেবেকা শিপলি বলছিলেন, 'আমাদের ক্লিনিকাল সহকর্মীদের সাথে এবং চীন ও ইতালিতে কোভিড -১৯ চিকিৎসায় নেতৃত্বদানকারী ডাক্তারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ আমাদের জন্য লাভজনক হয়েছে। এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আমাদের প্রয়োজনীয়তার সংজ্ঞা দিতে এবং প্রযুক্তির সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করেছে। আমরা আশা করি আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলিতে এনএইচএসকে এটা দারুন সমর্থন করবে।'

ইউসিএল'র মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক টিম বেকার বলছিলেন, 'জরুরি প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে আমরা এটা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি বলে আমরা কৃতজ্ঞ। সাধারণত এমন একটা আবিষ্কারে কয়েক বছর সময় লাগে। জরুরি প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আমরা সেটা কয়েকদিনেই তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।'

দ্রুততম সময়ে কিভাবে এটা তৈরিতে সক্ষম হলেন সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক বেকার বলেন, 'সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার পর থেকে আমরা দিনের সমস্ত ঘন্টা কাজ করেছি। অফ-পেটেন্ট ডিভাইসকে ভেঙ্গে বিশ্লেষণ করেছি। কম্পিউটার সিমুলেশনগুলি ব্যবহার করে আমরা ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত একটি অত্যাধুনিক সংস্করণ তৈরি করতে ডিভাইসটিকে আরও উন্নত করেছি।'

সূত্র- দ্য এস্কর্টসম্যান

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন