করোনাভাইরাস: বিশ্বজুড়ে একদিনেই ১ লাখ ১৬ হাজার রোগী শনাক্ত

  

পিএনএস ডেস্ক : বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে করোনাভাইরাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ। একদিনে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৯ লাখ। ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে তিন লাখেরও বেশি।

টানা তিন দিন ধরে হাজারের ওপরে মৃত্যু দেখল ব্রাজিল। সংক্রমণ ফের বেড়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ফ্রান্সে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুলগুলো আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে সেদেশের সরকার।

আক্রান্তের সংখ্যার পর এবার মৃত্যু সংখ্যায়ও চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। ব্রিটেনে লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হলেও ঘরেই থাকছেন ব্রিটিশরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ২৮৯ জন। মারা গেছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮০৭ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫৩ হাজার ৯৫৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৬ লাখ ৬ হাজার ৪৪১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ জন। মারা গেছেন ৫ হাজার ৮৭০, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ৫ হাজার ২৮৩ জন।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ও প্রাণহানিতে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ২২৩ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৬ জন।

রাশিয়ায় মোট আক্রান্ত ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬২৩ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৩৭৪ জন। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৬ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ১১৯ জন।

যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৬৯ হাজার ১২৭ জন, মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৮৩৭ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ জন, মারা গেছেন ৩৩ হাজার ১৪২ জন।

ব্রাজিলে আক্রান্ত-মৃত্যু বাড়ছেই : ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ৪১৭ জন। যা এখন পর্যন্ত দেশটিতে একদিনে সর্বাধিক আক্রান্তের রেকর্ড। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। টানা তিন দিন দেশটিতে দৈনিক এক হাজারের বেশি মানুষ করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছেন ১ হাজার ১৫৬ জন। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ৭৬৫ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ জন।

গত সপ্তাহে রাশিয়াকে টপকে বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে নাম লেখায় ব্রাজিল। অথচ দেশটিতে সংক্রমণ শুরু হয়েছিল অনেক পরে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই) এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ছাড়াতে পারে।

বিশ্বে মৃত্যুহারে শীর্ষে যুক্তরাজ্য : বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হারের দিক দিয়ে সবার ওপরে যুক্তরাজ্য। তবে মোট মৃত্যুর দিক থেকে তালিকার এক নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটেন এ তালিকায় দুই নম্বরে থাকলেও মৃত্যুহারে শীর্ষে দেশটি।

এদিকে লন্ডনের কিংস কলেজের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন লকডাউন শিথিল করলেও ব্রিটিশ জনগণ ঘরেই থাকছেন।

কলেজের পলিসি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ববি ডাফি বলেছেন, যুক্তরাজ্য সরকারের পরামর্শ সম্ভবত ‘সতর্ক থাকুন’ হিসেবে স্থানান্তর হয়েছিল, কিন্তু এখনও ‘ঘরে থাকুন’ বার্তাটি মেনে চলছে জনসাধারণ।

গবেষণায় উঠে এসেছে, আগের সপ্তাহে প্রতি ৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন একবারের বেশি বাড়ির বাইরে যাননি। ৪১ শতাংশ জনগণ গত ৭ দিনে পাঁচ বা তার বেশিবার বাইরে বের হননি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আবারও স্কুল বন্ধ ঘোষণা : করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলগুলো আবারও বন্ধ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যা গেল দু’মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনা আক্রান্তদের অধিকাংশই বুচেওন শহরের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মী।

করোনার প্রকোপের কারণে ওই শহরের প্রায় ২৫১টি স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাজধানী সিউল এবং এর আশপাশের শহরগুলোতেও জাদুঘর, পার্ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া বাসিন্দাদের জমায়েত এড়িয়ে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুই সপ্তাহে জাপানে সর্বোচ্চ সংক্রমণ : জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার কয়েকদিনের মধ্যে আবারও জাপানে বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার একদিনে আরও ৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৭ জন। ১৪ মের পর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।

নতুন আক্রান্তের ২১ জন জাপানের দক্ষিণের শহর কিতাকিউশুর। ২৩ দিন ধরে সেখানে আক্রান্তের হার শূন্য ছিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১৭ হাজার ৪৩১ জন এবং মৃত্যু ৮৮৭ জনের।

ফ্রান্সে ফের বাড়ছে সংক্রমণ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশ কমে এসেছিল ফ্রান্সে। কিন্তু নাটকীয়ভাবে আবার বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, গেল ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৩ হাজার ৩২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার আক্রান্ত হয়েছিল ৩ হাজার। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭১। সেরে উঠেছেন ৬৭ হাজার ১৯১ জন। বৃহস্পতিবার দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৬৬২ জন।

আফ্রিকায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে- ডব্লিউএইচও : করোনা সংক্রমণ তুলনামূলক কম দেখা দেয়ায় আফ্রিকার অনেক দেশকে সফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবার সতর্ক করে দিল।

সংস্থাটির আঞ্চলিক শাখার প্রধান বলেছেন, সম্প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোতেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ।

বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচও আফ্রিকার পরিচালক ডা. মাতশিদিসো মোয়েতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তো দ্রুতগতিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। যেমন- প্রথম এক হাজার কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় ৩৬ দিনে। এরপর ৬২ দিনের মাথায় তা লাখ ছাড়ায়। এখন তো সেটা এক লাখেরও বেশি।

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহের আগের তুলনায় চিত্রটা এখন ভিন্ন ভিন্ন। পাঁচটি দেশে এই সময়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনগুণ হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ দেশে তা হয়েছে দ্বিগুণ। তবে আশার খবর হল, বেশির ভাগ দেশে এখনও আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা হাজারের নিচে রয়েছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন