‘লেবাননের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইসরায়েল জড়িত থাকতে পারে’

  

পিএনএস ডেস্ক : লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। ওই বিস্ফোরণের পর অনেক দেশের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ইসরায়েল। তারা বলছে, এর পেছনে হয়তো ইসরায়েল দায়ী।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর বৈরুতের বন্দরের পাশের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বিস্ফোরণে শতাধিক নিহত ও আরও চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইরাকের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আল বালদাওয়ি বলেছেন, বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পেছনে ইসরায়েলের হাত থাকতে পারে।

তিনি বুধবার আল-মা’লুমা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা নিছক একটা দুর্ঘটনা নয়। বরং, এর পেছনে কারো না কারো হাত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এটা ঠিক যে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনের তদন্ত শেষ করতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মনে হচ্ছে এর সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত রয়েছে।

ইরাকের এই সংসদ সদস্য বলেন, ইসরায়েল এ ধরণের জঘন্য কাজ করে অভ্যস্ত। তারা নিরপরাধ মানুষ মেরে আনন্দ পায়। অতীতে বিভিন্ন দেশে এ ধরণের অনেক ঘটনাই ইসরায়েল ঘটিয়েছে। তারা ১৯৮১ সালে ইরাকের শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং গত বছরও ইরাকের সামরিক বাহিনী হাশদ আশ শাবির অস্ত্র গুদামে হামলা চালিয়েছে।

এছাড়া পরমাণু বিশেষজ্ঞদের মতো ব্যক্তিদের হত্যার মতো জঘন্য কাজও ইসরায়েল এর আগে করেছে। মুহাম্মদ আল বালদাওয়ি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলকে এজন্য অভিযুক্ত করা যেতে পারে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বৈরুতে বিস্ফোরণের সঙ্গে তারা জড়িত নন। এদিকে, লেবাননের অর্থনীতিবিদ জিয়াদ নাসর উদ্দিন বলেছেন, বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরণের কারণে ইসরায়েল অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

তার মতে, লেবাননের বৈরুত বন্দর সব সময় ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বৈরুত বন্দরের বিশাল ক্ষতি ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করবে।

জিয়াদ নাসর উদ্দিন আরও বলেন, লেবানন প্রতিষ্ঠার পর এত বড় বিপর্যয় আর ঘটেনি। এর ফলে লেবানন অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বৈরুত বন্দর সব সময় দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে সিল্ক রুট প্রজেক্টেও এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কারও কারও মতে জাপানের হিরোশিমায় মার্কিন পরমাণু বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণের পর এই প্রথম এতো বড় বিস্ফোরণ ঘটল। এর ফলে একশ’ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন তিনি।-পার্স ট্যুডে।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন