ভুটানের ভিতরে ‘গ্রাম’ বানিয়েছে চীন!

  

পিএনএস ডেস্ক: লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই মাথাচাড়া দিলো ভারতের পুরোনো ক্ষত ডোকলাম। ভারত, চীন ও ভুটানের সংযোগস্থলে এই ডোকলাম মালভূমি এলাকাতেই তিন বছর আগে চিনা সেনার রাস্তা তৈরির চেষ্টা নিয়ে দীর্ঘদিন উত্তেজনা চলেছিল ভারতীয় ও চীনা সেনার।

এবার চীনেরই এক সংবাদ প্রযোজকের টুইটে জানা গেলো, ডোকলামের সেই পুরোনো এলাকা থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে, ভুটানের ভিতরে ঢুকে চীন একটি আস্ত গ্রাম তৈরি করে ফেলেছে।

যদিও পরে সেই টুইট তিনি মুছে দেন। কিন্তু ওই প্রযোজকের পোস্ট করা ছবি ও উপগ্রহ মানচিত্র দেখে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ভুটান সীমান্তের দু’কিলোমিটারেরও বেশি ভিতরে এসে ‘পাংদা’ নামে ওই গ্রামটি তৈরি করেছে চীন।

ভারতের সামরিক গোয়েন্দা সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ডোকলাম বা পূর্ব লাদাখই নয়, দু’দেশের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন্ন সেক্টরে লক্ষ্যণীয় ভাবে চীনের সেনা, সাঁজোয়া বাহিনী বাড়ানো হচ্ছে। মধ্য সিকিমের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায়, হিমাচলের কৌরিক পাসের ও-পারে চুরুপ গ্রামে রাস্তা তৈরির কাজ করছে চীনা সেনা। উত্তরাখণ্ডে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরেই তৈরি হয়েছে বাঙ্কার।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সব মিলিয়ে সীমান্তে একটি স্থায়ী চাপ তৈরি করতে চলেছে বেইজিং। নিজেদের সুবিধাজনক শর্তে সীমান্ত নিয়ে মতবিরোধের সূত্র খোঁজাই শুধু নয়, ভারতকে কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক ভাবে স্থায়ী চাপে রেখে দক্ষিণ এশিয়া তথা গোটা অঞ্চলের নেতৃত্ব নিজের হাতে নিয়ে নেওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য শি চিনফিংয়ের।

ভারতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল ভেতসপ নামগিয়েল অবশ্য চিনের এই জমি জবরদখলের দাবি মানতে চাননি। তিনি স্পষ্টই বলেন, ভুটানের ভিতরে কোনো চিনা গ্রাম নেই।

বিতর্কিত ওই এলাকায় সীমান্ত নিয়ে চিন ও ভুটানের কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন করা হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, সীমান্ত নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে ভুটান ও চিনের মধ্যে যে সীমান্ত আলোচনা চলছিল, তা মেনে নিয়েছেন তিনি। কোভিড অতিমারির ফলে সেই আলোচনা কিছুটা মন্থর হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল সিজিটিএন’র সিনিয়র প্রযোজক শেন শিওয়েই গতকাল গ্রামটির বেশ কিছু ছবি টুইট করেন। নদীর ধারে রাস্তা, গ্রামের ঘরবাড়ির ছবি ছিল তার মধ্যে।

শেন লেখেন, নতুন পাংদা গ্রামে এখন আমাদের স্থায়ী বাসিন্দারা রয়েছেন। ইয়াদং কাউন্টির ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, উপত্যকা বরাবর এই গ্রাম। মানচিত্রে তার অবস্থানটা ভালো বোঝা যাবে।

সঙ্গে দেওয়া মানচিত্রে গ্রামের অবস্থান চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন শেন। পরে তিনি সেটি ‘ডিলিট’ করে দেন। অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের উপগ্রহ চিত্র বিশেষজ্ঞ নেথান রাশারের মতে, শেনের দেখানো মানচিত্রে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ভুটানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে চিন।

তিনি টুইটারে লেখেন, ওই সংবাদ প্রযোজক খোলাখুলি মেনেই নিচ্ছেন, একটি সার্বভৌম দেশের এলাকা দখল করে সেখানে বসতি স্থাপন করিয়েছে চীন। মানচিত্র অনুযায়ী, এই গ্রামটি ভুটান সীমান্তের আড়াই কিলোমিটার ভিতরে। ভুটানের ১২ শতাংশ জমিকে ভিত্তিহীন ভাবে দখল করছে চীন।

ভুটানের রাষ্ট্রদূতের বিবৃতি উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটা ডোকলাম সংঘাতের এলাকা থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে।

উপগ্রহ চিত্রের সঙ্গে চীনা প্রযোজকের পোস্ট করা ছবি মিলিয়ে দেখে অন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও বলছেন, ওই এলাকায় গ্রামটির যে অস্তিত্ব রয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন