ভারতে এবার গরু মন্ত্রণালয়!

  

পিএনএস ডেস্ক:বাঘ, সিংহ, হাতি, গন্ডারের জন্য অভয়ারণ্য আছে। কুমির প্রকল্প আছে। কিন্তু গরুর জন্য অভয়ারণ্য? হ্যাঁ! চমকে উঠবেন না। ভারতই এক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। আর ভারতকে পথ দেখাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে গরুদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ‘গো মন্ত্রণালয়’‌ গঠিত হয়েছে। জানা গেছে, গরু মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা থাকবে আরো ছয়টি মন্ত্রণালয়ের। সেগুলো হলো পশুপালন, বন, পঞ্চায়েত, কৃষি, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, নতুন মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য গরু সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ও মানুষের কল্যাণে গোসম্পদের সার্বিক ব্যবহার। রোববার (২২ নভেম্বর) মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি আরো বলেন, গো-রক্ষায় রাজ্যে গড়ে তোলা হবে অভয়ারণ্য বা গোশালা। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনে কর আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি।

কিন্তু গো-কল্যাণের জন্য টাকা কোথায়? গোশালা তৈরি, গরুদের খাবার দেওয়া, গরু অভয়ারণ্যের কাজ করতে কম টাকা তো লাগবে না! সমাধান বের করেছেন শিবরাজই। তিনি জানান, গোমাতার কল্যাণ ও গোশালা তৈরির জন্য সামান্য কর বসানো হতে পারে রাজ্যে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রদেশের মানুষকে গরু-করও দিতে হতে পারে।

এই কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে গরুর অভয়ারণ্য বা গোশালা তৈরির অর্থ, তা রক্ষণাবেক্ষণের জনবল ও তাদের বেতন-ভাতা দেয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ হিন্দু দিনের প্রথম রুটি গরুকে খাওয়ান। রাতের শেষ রুটি দেন কুকুরকে। এভাবেই জীবে প্রেমের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা হয়। সেজন্য মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। গরু কর নেওয়া হবে আগামী বছর থেকে।

২০১৭ সালে দেশের প্রথম গো অভয়ারণ্য ‘কামধেনু গো অভয়ারণ্য’ নির্মিত হয় মধ্যপ্রদেশের আগর মালোয়ায়। প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছিল ওই অভয়ারণ্য। সেই আগর মালোয়াতেই গো মন্ত্রণালয়ের প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হল।

পশ্চিমবঙ্গ, কেরালার মতো কয়েকটি রাজ্য ছাড়া ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে আইন করে গোহত্যা বন্ধ করা হয়েছে। সূত্র: জি-নিউজ।


পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন