ভারতে একাধিক পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু রহস্যের উত্তর মেলেনি আজও

  


পিএনএস ডেস্ক: সম্প্রতি ইরানের এক বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল বিশ্ব। বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিজাদের রহস্যমৃত্যুতে অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। কূটনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।

তবে পরমাণু বিজ্ঞানীর এভাবে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ভারতে রয়েছে এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ। ভারত একটি পরমাণুশক্তি সম্পন্ন দেশ। বিশ্বের কয়েকটি পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের মধ্যে অন্যতম।

কিন্তু এই বিশেষ আবিষ্কারের পিছেন যাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাদের অনেকেরই জীবন যেন কোনও এক রহস্যজনক অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। ভারতের এমন অনেক পরমাণু বিজ্ঞানীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয় না। উদঘাটন করার চেষ্টাও খুব একটা হয় না। আত্মহত্যা বা অজ্ঞাত কারণ দেখিয়েই মামলার ইতি টানে পুলিশ।

এটা তো সত্যি যে বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই ভারতের এই উন্নতি যথেষ্ট হিংসার কারণ। তাই ষড়যন্ত্রের প্রশ্নও কিন্তু একেবারে এড়িয়ে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি এক আরটিআই-এর ভিত্তিতে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যা সত্যিই চিন্তার কারণ।

ভারতের বোম্বে হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলাও হয়। তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম তৈরি করার আবেদন জানানো হয়।

১. প্রথম ঘটনা ঘটে আজ থেকে বহু বছর আগে ১৯৬৬ সালে। ভারতে পরমাণু বিজ্ঞানের জনক হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার মৃত্যু হয়। ভিয়েনা থেকে বিমানে আসছিলেন তিনি। জানা যায়, ওই বিমানের কোনও যান্ত্রিক গোলযোগের খবর ছিল না। এমনকি মাঝপথেও নিয়ম মেনে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি নেই বলে রিপোর্ট করা হয়। আর তার ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে ভেঙে পড়ে বিমানটি। হোমি ভাবাসহ মোট ১১০ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে আর কোনও তদন্ত এগোয়নি ভারত সরকার।

২. ২০০৩ সালে ৪৮ বছরের পরমাণু বিজ্ঞানী লোকনাথন মহালিঙ্গমের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পাঁচদিন পর তার দেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

৩. ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে মৃত্যু হয় দুই তরুণ বিজ্ঞানীর উমং সিং ও পার্থ প্রতিম বাগ। রহস্যজনকভাবে মডিউলার ল্যাবে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের।

৪. মহাদেবন পদ্মনাভন আইয়ার। ২০১০ সালে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের বাড়িতে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিনি ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দেওয়ালে ও মেঝেতে ছিটেফোঁটা রক্তের দাগ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি।

৫. ২০১১ তে বিএআরসি বিজ্ঞানী উমা রাওয়ের মৃত্যু হয়। ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. ভারতে ব্যালিস্টিক সাবমেরিন আইএনএস আরিহন্তের জন্য কাজ করছিলেন কেকে জোশ ও আবিশ শিবম। দু’জনের মরদেহ উদ্ধার হয় রেললাইনে। তাদের বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সূত্র : কলকাতা টোয়েন্টিাফোর।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন