যুক্তরাষ্ট্রে ভ্যাকসিন বিতরণ ১৫ ডিসেম্বর থেকে

  


পিএনএস ডেস্ক: প্রতি মিনিটে গড়ে একজন আমেরিকানের মৃত্যু হচ্ছে করোনায় প্রকোপ শুরুর পর থেকে। সিডিসি (সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এ্যান্ড প্রিভেনশন)’র চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা ১ লা ডিসেম্বর মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় যতদ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন বিতরণ করতে হবে এবং তা হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠুভাবে। এ বৈঠকের সুপারিশ অনুযায়ী সর্বপ্রথম সিনিয়র সেন্টার তথা নার্সিং হোম এবং চিকিৎসক, নার্স, স্কুলে হেলথকেয়ার কর্মীর মধ্যে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে হবে। শীত যত তীব্র হবে এর প্রকোপ তত মর্মান্তিক হবে বলেও গবেষকরা উল্লেখ করেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব সর্বত্র ভ্যাকসিন বিতরণ ও তা যথাযথভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা জানান যে, ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নার্সিং হোমে মারা গেছেন ৬৯ হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের নার্সিং হোমের বাসিন্দা হচ্ছেন মোট জনসংখ্যার মাত্র ১% অর্থাৎ ৩০ লাখের মত। অথচ করোনায় মৃতদের মধ্যে নার্সিং হোমের বাসিন্দা হচ্ছেন ৩৯%। এর বাইরে আরো ৫৪৬৯ জন রয়েছেন (১৫ অক্টোবর পর্যন্ত) যারা নার্সিং হোমের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

সিডিসির সূত্রে আশা করা হচ্ছে যে, ১৫ ডিসেম্বর নাগাদ ফাইজারের ভ্যাকসিনের প্রথম চালান গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে। মডার্নার ভ্যাকসিনের প্রথম চালান রওয়ানা দেবে ২২ ডিসেম্বর। এজন্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ কর্মসূচি নির্ভর করছে জরুরীভাবে ভ্যাকসিন ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদনের ওপর। ফাইজার এ আবেদন এফডিএর কাছে সাবমিট করেছে ২০ নভেম্বর। অপরদিকে ৩০ নভেম্বর আবেদন করেছে মডার্না। জানা গেছে, এফডিএ’র ভ্যাকসিন এবং সংশ্লিষ্ট বায়োলজিক্যাল প্রডাক্ট নিয়ে কর্মরত শীর্ষ বিজ্ঞানীরা ১০ ডিসেম্বর বৈঠকে মিলিত হবেন ফাইজারের ড্যাটার চ’ড়ান্ত বিশ্লেষণের পর তা ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য। এরপর মডার্নার ভ্যাকসিনের অনুমোদনের জন্যে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক হবে ১৭ ডিসেম্বর। ১৮ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চারদিনের গভীর পর্যবেক্ষণ শেষে ২২ ডিসেম্বর তা বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হবে। ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারিরা জানান ফাইজার ভ্যাকসিনের ২ কোটি ২৫ লাখ ডোজ এবং মডার্নার এক কোটি ৮০ লাখ ডোজ চলতি ডিসেম্বরেই প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসেই ২ কোটি ২৫ লাখ আমেরিকান পাবেন এই ভ্যাকসিন। প্রথমবার গ্রহনের কয়েক সপ্তাহ পর আরেক ডোজ নিতে হবে করোনা প্রতিরোধে শরীরকে সক্ষমতা দিতে।

মঙ্গলবার সিডিসির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা-বিজ্ঞানীগণের এ সভায় কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ কমানো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন লোকজনকে ১৪ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার বিধি চালু হতে পারে। তবে যারা টেস্টে নেগেটিভ রেজাল্ট পেয়েছেন তাদের জন্যেই ৭ দিনের কোয়ারেন্টিন। আর যারা টেস্ট করেননি তাদেরকে ১০ দিন থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে। তবে এই সুপারিশ নির্ভর করবে হোয়াইট হাউজে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত টাস্কফোর্সের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের অনুমোদনের ওপর।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন