‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক’, ব্রিটিশ মন্ত্রীর মন্তব্যে অস্বস্তিতে মোদি সরকার

  

পিএনএস ডেস্ক : ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের এশিয়া বিষয়ক মন্ত্রী। বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে এক সভায় তিনি এ বিষয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেন।

বুধবার ভারত ও পাকিস্তানের কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে এক বিতর্কসভা অনুষ্ঠিত হয় পার্লামেন্টের ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে। সেই বিতর্ক সভাতেই ব্রিটেনের এশিয়া বিষয়ক মন্ত্রী নাইজেল অ্যাডমস বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।’ তিনি জানান, ‘এই সমস্যার সমাধান করতে পারে ভারত ও পাকিস্তান। লন্ডন মধ্যস্থতা করবে না।’ কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে দু’দেশের সঙ্গেই বরিস জনসন সরকারের প্রতিনিধিরা আলোচনা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন অ্যাডামস। ওই বিতর্কসভায় ভূস্বর্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জমায়েতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে মোদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নাইজেল অ্যাডমস বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীর ব্রিটেনের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের আটক এবং সেখানকার বিধিনিষেধ নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আমরা বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। পররাষ্ট্র সচিব ডমিনিক রাব ভারত সফরে নয়াদিল্লির প্রতিনিধির কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।’ স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটেনের মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জেরে অস্বস্তিতে দিল্লি। তাদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরামর্শদাতাদের একটি রিপোর্ট।

ওই রিপোর্টে ভারতকে চীন, সউদী আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘ডিফিকাল্ট ফোর’ গোষ্ঠীতে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে রিপোর্টে ওই কূটনীতিবিদরা বলেছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতির জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অর্থাৎ মুসলিম, খ্রিস্টানরা ক্রমাগত কোণঠাসা হচ্ছে। নেহরু নির্ধারিত ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকেও ক্রমশ সরে যাচ্ছে ভারত। পাশাপাশি ভারতে অত্যধিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠতাকেও ভাল চোখে দেখছে না ব্রিটেন। এ সমস্ত কারণেই ভারতকে আর অতিরিক্ত সুবিধা না দেয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন ব্রিটেনের ওই পরামর্শদাতারা।

এদিকে ব্রিটেন পার্লামেন্টের কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনাকে মোটেই ভাল চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। এ প্রসঙ্গে ভারতের হাই কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিদেশের পার্লামেন্টে আলোচনা করা হোক, তা মোটেই পছন্দ করে না নয়াদিল্লি। ভারত সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ও ভুয়া তথ্য এড়ানোর জন্য ব্রিটেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে হাই কমিশন।’ সূত্র: টিওআই।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন