মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

  

পিএনএস ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার রাতে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে নিজ দেশের এমন অঙ্গীকারের কথা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। রয়টার্স।

টুইটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহালের দাবি করায় যারা বার্মার মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। আমরা বার্মার জনগণের পাশে আছি।

মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ১০ দিনের মাথায় নিজ দেশের এমন অবস্থানের কথা জানালেন অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

এদিকে পুলিশের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহতের পর মিয়ানমারের রাজপথে আবারও জড়ো হয়েছে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। রাজধানী ইয়াঙ্গুনের দুইটি স্থানে সমবেত হয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা। মান্দালয় শহরেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। চলমান বিক্ষোভ আর নাগরিক অসহযোগ আন্দোলন সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে জান্তা সরকার।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে টানা বিক্ষোভ চলছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, কবি, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামরিক শাসন অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। অভ্যুত্থানবিরোধীরা সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী নেত্রী অং সান সু চি’র মুক্তিরও দাবি জানাচ্ছেন। এর আগে মাথায় গুলিবিদ্ধ এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়।

পুলিশি অভিযানের পরদিনই রবিবার সকালে মান্দালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছে লাখ লাখ মানুষ। উত্তরের শহর মাইতিককাইনাতে মানুষ নিহত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলেও রবিবার তরুণরা অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যানার নিয়ে মোটরবাইক মিছিল করেছে।

মান্দালয়ের এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, ‘তারা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।’

জান্তা সরকারের বলপ্রয়োগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাও মিন তুন। তবে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী সংবিধান অনুসরণ করেই কাজ করছে আর বেশিরভাগ মানুষ এতে সমর্থন দিচ্ছে। সহিংসতার জন্য তিনি বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন