মমতা হেরে গেলে কী হবে?

  

পিএনএস ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এরইমধ্যে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের আভাস পাওয়া গেছে। তবে গণনার প্রাথমিক প্রবণতার সব থেকে উল্লেখযোগ্য খবর হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর থেকে পিছিয়ে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের প্রবণতা স্পষ্ট হলেও স্বয়ং মমতার পিছিয়ে পড়ার প্রাথমিক খবরে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে দেখা দিয়েছে।

যদিও এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পিছিয়ে পড়ার যে প্রবণতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সকাল ৮টায় গণনা শুরু হওয়ার সময় থেকে ছিল, সেটা কিছুটা হলেও কমেছে। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবধান তিন হাজারের কিছু বেশি এখন পর্যন্ত। ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা হয়ে গেছে। যদিও নন্দীগ্রামে এখনো ১৪ রাউন্ড গণনা বাকি আছে।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবর অনুযায়ী, সকাল ৯ টা ২০ মিনিটে প্রথম রাউন্ডে ১ হাজার ৪৯৭ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিট দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনা শেষে লিড বাড়িয়ে ৪,৫০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে যান শুভেন্দু। তৃতীয় রাউন্ড শেষে মমতার সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৭ হাজার ২৮৭। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পঞ্চম রাউন্ডের শেষে ৩,৬৮৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কমেছে তার লিড। ব্যবধান কমিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু তারই একসময়ের ডান হাত, মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য। তিনি গত ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। গত ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট হয়। এই দফার ভোটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। এছাড়া নির্বাচনের পর বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিলেন মমতা ও শুভেন্দু। মমতা বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত, এই আসনে ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনিই জিতবেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু বলেছিলেন, তিনি অন্তত ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে মমতাকে হারাবেন।

এদিকে মমতা পিছিয়ে থাকায় একটি প্রশ্ন তীব্র হয়ে উঠছে- যদি শেষ পর্যন্ত মমতা হেরেই যান, তাহলে কী হবে?

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, মমতা নিজে হেরে গেলেও যদি তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং মমতাকেই নতুন বিধায়করা নেত্রী নির্বাচিত করেন, সেক্ষেত্রে মমতার মুখ্যমন্ত্রী হতে কোনো আইনগত অসুবিধা নেই। তবে ছয় মাসের মধ্যে তাকে নির্বাচিত হয়ে বিধানসভার সদস্য হতে হবে। যদি ছয় মাসের মধ্যে তিনি বিধানসভার সদস্য না হতে পারেন, সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের বিধানসভার ভোটে মমতা নিজে লড়েননি। তখন তিনি কেন্দ্রের মন্ত্রী। তার দল জিতে তাকে নেত্রী নির্বাচিত করে। পরবর্তীতে মমতা লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তখন জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সুব্রত বক্সী। তিনি পদত্যাগ করলে সেই আসলে উপনির্বাচনে জিতে মমতা মুখ্যমন্ত্রী থেকে যান। যদিও এবার শেষ পর্যন্ত মমতা জিতবেন বলেই ধারণা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন