রোজা ও ঈদের সৌন্দর্য রক্ষায় ভণ্ড মোল্লাদের সৌদি পাঠানো জরুরি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এর একটি উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। মাসব্যাপী রোজা ও সংযোম পালনের পর মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে সারাদেশে মুসলমানরা ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করবেন। আর সেটি হবে চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা মতো। অথচ আমাদের দেশে একটি চক্র রোজা ও ঈদের নামে ভণ্ডামি করছে, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শামিল।

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার সাথে সংযম, তারাবীহ, যাকাত, ফিতরা আদায়, জিকির, দরুদ ও কান্নাকাটি করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম আনন্দই হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর। যারা রোজা পালন করেছেন মহান আল্লাহকে খুশি করার জন্য, ঈদ-উল-ফিতর তাদের জন্য বড় নেয়ামত। কেননা মহান আল্লাহ নিজে রোজাদারদের পুরস্কার দিবেন। যে পুরস্কার আল্লাহ নিজে দেবেন, তা নিশ্চয় ভাবনারও অতীত হবে।

রোজা ও ঈদ নিয়ে দেশে দুটি ধারা বিরাজমান। একটি মূল ধারা। আরেকটি বেদাত। যারা এ দেশে খায়, পরে এবং থাকে; তারা ভীন দেশের সংস্কৃতি লালন করে। করে পাগলামী। অন্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে পালন করে রোজা ও ঈদ। কিন্তু ছাগলের পাল ওই দেশের সঙ্গে মিল রেখে কিন্তু সেহ্রী ও ইফতার গ্রহণ করে না। করে না নামাজ আদায়। এ দেশের আলো-বাতাসে বড় হয়ে গাদ্দারের দল, সমাজের নোংরা কীটসমরা সৌদি আরবকে প্রাধান্য দেয় রোজা আর ঈদ পালনের ক্ষেত্রে।

এরা এ দেশে থাকবে, এদেশেরটা খাবে-পরবে আর পালন করবে অন্য দেশের রীতিনীতি ও সংস্কৃতি। বৃহৎ মুসলিম দেশটিতে ধর্ম ও সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এই নরাধমদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। দেশের বড় জনগোষ্ঠী যখন রোজা ও সংযোম পালনরত তখন ফেরকাবাজ নষ্ট মানুষের একটা অংশ ঈদ পালনের নামে ভণ্ডামি করবে, এটা একটি দেশ ও সভ্য সমাজের জন্য হীতকর নয়। এদের আর বাড়তে দেওয়াও সমীচীন নয়।

মানুষ যে দেশে থাকবে, বসবাস করবে; সে দেশের আইন ও রীতি-নীতি মেনে চলা তার জন্য অবশ্যকর্তব্য। আল্লাহর রাসুলের মতে, এটা সুন্নাত। দেশে চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদের ঘোষণা দেওয়া হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। অথচ বছরের পর বছর এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে চলেছে কতিপয় অনাচার সৃষ্টিকারী মোল্লা। এটাকে আর বাড়তে দেওয়া শুভবুদ্ধির পরিচয় নয়। এদের নষ্টামি ও ভণ্ডামি শান্তির ধর্ম ইসলামের জন্য সমূহ ক্ষতির কারণ বৈকি।

দেশের প্রচলিত আইনে এদের শক্ত হাতে দমন করা জরুরি। অন্যথায় দীনদার মুসলমানদের সংযোমের সীমা অতিক্রম হলে তখন বলা-করার কিছু থাকবে না। এটা নিয়ে ওইসব এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব ক্ষোভ ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।

আমাদের চাঁদ দেখা জাতীয় কমিটি রয়েছে। যে কমিটি চাঁদ দেখা নিয়ে গবেষণা এবং দেশব্যাপী অনুসন্ধান করে। চাঁদ দেখা গেলে এবং না-দেখা গেলে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রোজা রাখা এবং ঈদের দিন-তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। আর সে মোতাবেক দেশবাসী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। অথচ কতিপয় ব্যক্তি এক মণ দুধে এক ফোঁটা চনা ফেলার মতো অপরিণামদর্শী অসামাজিক কাজ করে আসছে।

মুসলমানরা বিশ্বাস করে, রমজানে শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়, অথচ আমাদের দেশে শয়তানের দোসরদের একদিনে আগে রোজা ও ঈদ পালনের নামে সমাজে অবাধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সমাজের এই উচ্ছৃঙ্খল কথিত মোল্লাদের কবল থেকে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও ঈদের খুশির আমেজ একই দিন করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক সামাজিক ও ধর্মীয় সুন্দৌর্য বজায় রাখা অতীব জরুরি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech