গাইবান্ধায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

  

পিএনএস, গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সাঘাটায় যৌতুক না পেয়ে মঞ্জুরি বেগম নামে এক স্কুল শিক্ষিকাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে শাহাদত হোসেন মন্ডল বাবু (৪০) নামে এক যুবককে মৃত্যুদন্ড- দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার নারী ও শিশু ট্রাইবুন্যালের বিচারক রতনেশ্বর ভট্টাচার্য মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এই রায় দেন। রায় ঘোষণার পূর্ব থেকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে শাহাদত হোসেন মন্ডল বাবু আটক ছিলেন। তিনি নওগাঁর ধামুরহাটা উপজেলার চমউমর গ্রামের শামছুল হুদা মন্ডলের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাহাদত হোসেনের সঙ্গে ২০০৭ সালের ১৭ জুন সাঘাটা উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন খন্দকারের মেয়ে মঞ্জুরি খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবু তার স্ত্রীর নিকট দুই লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মঞ্জুরির ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তাদের দাম্পত্য জীবনে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। শিশুটির নাম মাহিত (৭)।

মঞ্জুরি খাতুন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শত নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। এরই এক পর্যায়ে তাকে মারপিট করে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মঞ্জুরি তার বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। বিষয়টি আপোস করতে বাবু ঘটনার দিন ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল সকালে শ্বশুড়বাড়িতে আসেন। সেখানেই রাতে মঞ্জুরিকে দাবিকৃত যৌতুকের টাকার কথা বলা হয়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে মঞ্জুরিকে হত্যা করার পর বাবু শিশুপুত্রকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরের দিন ২২ এপ্রিল নিহতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন খন্দকার বাদী হয়ে বাবুকে আসামী করে সাঘাটা থানায় মামলা করেন। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাবুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানিকালে ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষ্য প্রদাণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ওই ট্রাইবুন্যালের এপিপি আব্দুল্লাহ কনক। আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান রিপু।

পিএনএস/মো: শ্যামল ইসলাম রাসেল


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech