রানা প্লাজার মালিক রানার জামিন নাকচ

  


পিএনএস ডেস্ক: সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাভারের রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি আবু বক্কর সিদিক্কীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে এই মামলায় সোহেল রানার ৩ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় গত ২৯ আগষ্ট এ মামলায় রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

মাদক সেবন, অবৈধ অস্ত্র রাখা, ইমারত বিধি, ভবনের নকশা জালিয়াতি ও হত্যার অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা রানার বিরুদ্ধে বিচারাধীন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যন্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ভেঙে পড়লে শিল্পক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ওই ঘটনায় নিহত হন এক হাজার ১৩৫ জন, আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক, যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

বাংলাদেশের ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়। দেশে কারখানার অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলে সরকার ও মালিকরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

এক সময় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া রানা ওই ঘটনার পর পালিয়ে যান। চারদিন পর যশোর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় মামলা।

সোহেল রানার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নেমে দুদক সে সময় জানতে পারে, রানা প্লাজা ছাড়াও সাভারে আট তলা বাণিজ্যিক ভবন রানা টাওয়ার, পাঁচ তলা একটি আবাসিক ভবন এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে একটি দোতলা বাড়ির মালিক তিনি।

এছাড়া রানা ব্রিকস ও এম এ কে ব্রিকস নামে দুটি ইটভাটারও সন্ধান পান দুদক কর্মকর্তারা। তারা জানতে পারেন, অন্তত ২৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সোহেল রানা লেনদেন করতেন।

সাভারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ তালুকদার তৌহিদ জং মুরাদের ঘনিষ্ঠ সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অবৈধভাবে জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এলাকায়।

রানা প্লাজা ধসের কয়েক মাস আগেও সাভার এলাকা পোস্টারে ছেয়ে ফেলেন রানা; সেখানে তার পরিচয় লেখা হয় সাভার পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জংয়ের ছবিও সেখানে ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরাদ জংয়ের মদদেই মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে অর্থশালী হয়ে ওঠেন রানা; যদিও মুরাদ জং তা বরাবরই নাকচ করে এসেছেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech