স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

  

পিএনএস ডেস্ক : পরকীয়ার জেরে রাজধানীর পল্লবীতে স্বামী সিপাহী মহসীনের লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ কেটে হত্যার দায়ে স্ত্রী মোছা. সালেহা খাতুন শিউলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক আবদুর রহমান সরদার আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মহসীন তার স্ত্রী সালেহা খাতুন এবং দুই ছেলে প্রান্ত ও প্রিয়ন্তকে নিয়ে পল্লবীতে স্থায়ীভাবে বাস করতেন। মহসীনের সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় সালেহা অন্য ছেলেদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি ও মারামারি লেগেই থাকতো।

২০১২ সালের ২৬ অক্টোবর সালেহা খাতুন তার সহযোগী শরীফ চৌধুরী আপন, সুরুজ মিয়াসহ ৫/৭ জনকে নিয়ে মহসীনের লিঙ্গ ও অণ্ডকোষ পুরোটাই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে। গলার শ্বাসনালী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলে। পরে তাকে উদ্ধার করে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মজনু মিয়া বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই বিপ্লব কুমার শীল পরের বছরের ২১ জানুয়ারি সালেহা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মহসীনকে হত্যার দায় স্বীকার করে সালেহা খাতুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সালেহা খাতুন চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলবের আইঠাদি মাথাভাঙার মৃত সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের মেয়ে।

বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, বর্তমানে স্বামীর হাতে স্ত্রী, আবার স্ত্রীর হাতে স্বামীর মৃত্যু হচ্ছে। এ ধরনের মামলার আসামির উপযুক্ত বিচার হওয়া আবশ্যক। আসামি যে অপরাধ করেছে তা খুবই মর্মান্তিক, ভয়ঙ্কর। এই অপরাধ সভ্য সমাজের মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও সহনীয় নয়।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech